পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনেখোয়া প্রদেশের বারা শহরে পুলিশের সঙ্গে ইমরান খানের সমর্থকদের সংঘর্ষের পর ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। ছবি : এএফপি
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে আয়োজিত একটি বিক্ষোভ সমাবেশে পুলিশের গুলিবর্ষণে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) স্থানীয় এক নেতা জানান, খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে গতকাল মঙ্গলবারের সমাবেশে পুলিশ সরাসরি জনতার ওপর গুলি চালায়। তবে পুলিশের এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে তারা সতর্কতামূলক ফাঁকা গুলি ছুঁড়েছিলেন। খবর বার্তাসংস্থা এএফপির।
ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে এবং কঠোর অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট সরকারবিরোধী ক্ষোভ প্রকাশের জন্য সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পিটিআই-এর ঘাঁটি বলে পরিচিত খাইবার পাখতুনখোয়ায় দলটির হাজার হাজার সমর্থক মিছিল করেছেন।
একসময়ের অত্যন্ত জনপ্রিয় সাবেক ক্রিকেট তারকা ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে বন্দি রয়েছেন। সরকার বিরোধী দাঙ্গার অভিযোগের পাশাপাশি দুর্নীতি থেকে শুরু করে রাষ্ট্রদ্রোহের মতো বেশকিছু মামলার মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাকে।
ইমরান খান এবং তার আইনি দলের কর্মকর্তারা সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন; এগুলোকে ইমরানের জনপ্রিয়তা নস্যাৎ করার লক্ষ্যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা বলে আখ্যা দিয়েছেন তারা।
খাইবার পাখতুনখোয়ার পুলিশের এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এএফপি-কে জানান, মঙ্গলবার বারা শহরে ২০০ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারী প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। বিক্ষোভটি ছত্রভঙ্গ করতে নিরাপত্তা বাহিনী টিয়ার গ্যাস, লাঠিচার্জ এবং গুলি ব্যবহার করে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘পুলিশ টিয়ার গ্যাস এবং লাঠিচার্জ করার পর বিক্ষোভকারীরা পুনরায় সংঘটিত হয়ে, পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনাস্থলে থাকা অন্য কর্মকর্তারা সহকর্মীদের উদ্ধার করতে ফাঁকা গুলি চালান। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা করে এবং এর ফলে কর্মকর্তারা জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে সতর্কতামূলক গুলি চালাতে বাধ্য হন।’
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, গুলি এবং পাথরের আঘাতে ১১ জন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন। এছাড়া আন্দোলনকারীরা একটি জরুরি সেবা কার্যালয়ে ভাঙচুর চালায় এবং একটি প্রশাসনিক ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়।
স্থানীয় পিটিআই নেতা খুরশীদ আফ্রিদি এএফপি-কে বলেন, পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে সরাসরি জনতার ওপর গুলি চালায়, যার ফলে ডজনখানেকেরও বেশি পিটিআই কর্মী গুরুতর আহত হন।
খাইবার পাখতুনখোয়ায় জরুরি অবস্থা
ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে টানা কয়েক দিনের সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পর গত রোববার খাইবার পাখতুনখোয়ায় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়।
স্থানীয় পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সন্ত্রাসবাদ, নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড এবং সরকারি সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত করার সন্দেহে তারা বারা শহর থেকে ৫০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশের মতে, জরুরি অবস্থা কার্যকর হওয়ার পর থেকে খাইবার পাখতুনখোয়ার কর্তৃপক্ষ কয়েকশ’ পিটিআই সদস্যকে আটক করেছে।
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার সোমবার জানিয়েছেন, খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদিকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে, তবে তাকে ‘গ্রেপ্তার’ করা হয়নি। তিনি অবশ্য এই আটকের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
পিটিআইয়ের নেতা খুরশীদ আফ্রিদি বলেছেন, সোহেল আফ্রিদির সমর্থনে বারা শহরে ৮০০ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারী একত্রিত হয়েছিলেন।
ইসলামাবাদ খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি অবস্থা জারির পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেছে, প্রদেশের পিটিআই প্রশাসন সেখানে জঙ্গি সহিংসতা মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়েছে। পিটিআই এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করেছে এবং এটিকে অসংবিধানিক ও কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক ক্ষমতা দখলের চেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছে।
sn/sks