ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামগামী আন্তনগর কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে ট্রেনে দায়িত্বরত এক এটিএসআইসহ চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে জিআরপি পাকশি রেলওয়ে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
এ ঘটনা তদন্তে জিআরপি ঈশ্বরদী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) দ্বীন-ই-আলমকে প্রধান করে দুই সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জিআরপি পাকশী রেলওয়ে জেলার পুলিশ সুপার মেহেদী হাসান।
মেহেদী হাসান জানান, ৩১ আগস্ট, সোমবার দিনগত রাতে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা আন্তনগর কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসে ওই দিন দায়িত্বরত এটিএসআই খোকন ইসলাম, কনস্টেবল ফজলে রাব্বি, কনস্টেবল গোলাম মোস্তফা ও কনস্টেবল আশিকুর রহমানসহ চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে পাকশি রেলওয়ে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে কোন দুই পুলিশ সদস্য ওই নারীর কাছে ১০ হাজার টাকা জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়েছে, নারী পুলিশ প্রশাসন না থাকা সত্ত্বেও ভিকটিমের শরীর তল্লাশি এবং ধর্ষণের সময় পুলিশের কোনো সহযোগিতা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ওই দুই পুলিশ সদস্যকে চিহ্নিত করার কাজ চলছে।
পুলিশ সুপার আরও জানান, আজ বুধবার সকালে জিআরপি ঈশ্বরদী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) দ্বীন-ই-আলমকে প্রধান করে দুই সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির অন্য সদস্য হলেন জিআরপি ঈশ্বরদী সার্কেলের পুলিশ পরিদর্শক হাফিজুর রহমান। দুই সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি আগামী সাত কর্ম দিবসের মধ্যে পুলিশ সুপার বরাবর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে।
পুলিশ সুপার মেহেদী হাসান আরও জানান, এই তদন্ত কমিটি ভিকটিমের সঙ্গে কথা বলবে। তার সহযোগিতা নিয়ে দুই পুলিশ সদস্যকে শনাক্ত করার কাজ সম্পন্ন করবে।
এ ছাড়া, অভিযুক্তর সঙ্গে কথা বলা, প্লেস অব অকারেন্স (পিও) পরিদর্শনসহ প্রকৃতপক্ষে কী কী ঘটনা ওই দিন ঘটেছিল তা নির্ণয় করে প্রতিবেদনের অন্তর্ভুক্ত করবে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী কার্যক্রম দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে।
৩০ আগস্ট, রোববার দিনগত রাতে ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামগামী আন্তনগর ‘কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস’ ট্রেনে বিনা টিকিটে ভ্রমণ করছিলেন এক নারী। ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশন থেকে সিরাজগঞ্জ যাওয়ার উদ্দেশে তিনি ওই ট্রেনে ওঠেন। ট্রেনে ওঠার পরে সন্দেহ হলে ট্রেনের পুলিশ সদস্যরা জানতে চান তিনি কোথায় যাবেন। ওই নারী বলেন সিরাজগঞ্জে। পুলিশ সদস্যরা ওই নারীকে বলেন এই ট্রেনের স্টপেজ সিরাজগঞ্জে নেই। তখন ওই নারী পুলিশ সদস্যদের জানান, তিনি দিনাজপুরের পার্বতীপুরে আত্মীয়র বাড়িতে যাবেন। এরপর পুলিশ সদস্যরা তাকে ট্রেনের ক্যান্টিনে বসিয়ে রেখে চলে যান।
এরপর ভোর ৪টার দিকে ওই নারী জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে অভিযোগ করেন চলন্ত ট্রেনে পুলিশের উপস্থিতিতে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে। ৯৯৯-এর কলের ভিত্তিতে সান্তাহার রেলওয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিক ট্রেনের লোকেশন ট্র্যাক করে পার্বতীপুর রেলওয়ে পুলিশকে ভিকটিমকে উদ্ধার এবং অভিযুক্তকে আটক করার অনুরোধ জানায়। ট্রেনটি পার্বতীপুর জংশন স্টেশনে পৌঁছালে পার্বতীপুর রেলওয়ে থানা পুলিশ ভিকটিমকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্তকে আটক করে। পরে রাজশাহীগামী বরেন্দ্র এক্সপ্রেস ট্রেনে ওই দুজনকে পুলিশ প্রহরায় সান্তাহার রেলওয়ে পুলিশের কাছে নিয়ে আসা হয়।
এরপর ৩১ আগস্ট সোমবার সন্ধ্যায় ভিকটিম ওই নারীর ছেলে ঢাকা থেকে একতা এক্সপ্রেস আন্তনগর ট্রেনযোগে সান্তাহার এলে তার ছেলের উপস্থিতিতে তিনি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে এবং পুলিশ সদস্য কর্তৃক টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে সান্তাহার জিআরপি থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের ক্যান্টিন বয় আবু বকর সিদ্দিকের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় দুই পুলিশ সদস্যকে আসামি করা হয়। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, অজ্ঞাতপরিচয় ওই দুই পুলিশ সদস্য তার কাছে থাকা ১০ হাজার টাকা নিয়ে গেছেন এবং তাদের উপস্থিতিতেই ক্যান্টিন বয় আবু বকর সিদ্দিক তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছেন। বর্তমানে অভিযুক্ত আবু বকর সিদ্দিক বগুড়া জেলা কারাগারে এবং ওই নারীকে মেডিকেল টেস্টের পর তার ছেলের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।