কুড়িগ্রামে গুদাম ভেঙে ১০ হাজার কেজি সার নিয়ে গেলো বিক্ষুব্ধ কৃষকরা

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে একটি ডিলারের গুদাম ভেঙে ১৯৭ বস্তা ইউরিয়া সার (প্রায় ১০ হাজার কেজি) নিয়ে গেছে বিক্ষুব্ধ কৃষকরা।

রোববার (২৩ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের মেসার্স শাহ আমানত ডিলার পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে। পরে প্রশাসনের আহ্বানে ১০০ বস্তা সার ফিরিয়ে দিয়েছেন কৃষকরা।

ঘটনা তদন্তে এরইমধ্যে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিলখুড়ি ইউনিয়নের ডিলার শাহ আমানত ট্রেডার্সের মালিক তাইফুর রহমান মুকুল এক হাজার ৩২০ বস্তা ইউরিয়া সার বরাদ্দ পেয়েছিলেন। এর মধ্যে গুদামে মজুদ ছিল ৩৪০ বস্তা সার।

রোববার সকাল থেকে তার ডিলার পয়েন্টে ২ শতাধিক কৃষক সারের জন্য একত্রিত হন। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর ডিলার পয়েন্ট না খোলায় কৃষকরা গুদামের দরজা ভেঙে ৫০ কেজি ওজনের ১৯৭ বস্তা বা ৯ হাজার ৮৫০ কেজি ইউরিয়া সার নিয়ে যায়। এ সময় পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে এবং অবশিষ্ট সার রক্ষা করে।

ডিলার তাইফুর রহমান মুকুলের দাবি, বিতরণ শুরুর তারিখ নির্ধারিত থাকায় তার দোকানে ভিড় করে কৃষকরা। বরাদ্দ ছিল এক হাজার ৩২০ বস্তা ইউরিয়া সার। এর মধ্যে গুদামে মজুদ ছিল ৩৪০ বস্তা সার। একপর্যায়ে গেডাউনে ঢুকে ৫০ কেজি ওজনের ১৯৭ বস্তা সার নিয়ে যায় অপেক্ষারতরা।

ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিমুদ্দিন বলেন, ওই ইউনিয়নে চাহিদা প্রায় ৪ হাজার বস্তা সার। কিন্তু মোট বরাদ্দ ছিল এক হাজার ৩২০ বস্তা। উত্তোলন আরও কম ছিল। ফলে কৃষকরা সার না পাওয়ার শঙ্কা থেকে গুদাম থেকে সার নিয়ে গেছে।

তিনি আরও জানান, খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশের তৎপরতায় ৩৩ জন ৩৩ বস্তা ফেরত দিয়ে গেছে। বাকিগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার বলেন, আমাদের উপজেলায় আগস্ট মাসে ইউরিয়া সারের চাহিদা ছিল ৬৮০ মেট্রিক টন। সেটি আমরা পেয়েছি এবং বিতরণও চলছে। উপজেলায় ইউরিয়া সারের কোনো সংকট নেই। অনেক মানুষ একত্রিত হওয়ার কারণে কৃষকরা আতঙ্কে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে।

ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেবনাথ বলেন, শিলখুড়ি ইউনিয়নের ধলডাঙ্গার একটি পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, কৃষি কর্মকর্তাসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে শান্তিপূর্ণভাবে সার বিতরণ চলছিল। এ সময় কিছু উচ্ছৃঙ্খল মানুষ সার লুট করে নিয়ে গেছে। পরে খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। কিছু সার উদ্ধার হয়েছে এবং বাকিগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। ঘটনা তদন্তে ৫ সদস্যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ভূরুঙ্গামারী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ডিলার তাইফুর রহমান মুকুল। কৃষকদের কেউ এ নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *