কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানা শতাব্দীর ভয়াবহতম ভূমিকম্পে প্রাণহানি বেড়ে অন্তত ২৪১ জনে দাঁড়িয়েছে। ভয়াবহ এই দুর্যোগে আহত হয়েছেন ১ হাজার ৬৭০ জনেরও বেশি মানুষ। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা জীবিতদের উদ্ধারে উদ্ধারকর্মী, সেনা সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবীরা একযোগে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। খবর ফার্স্ট পোস্টের।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জানা যায়, ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী এই ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ক্যালি ও পেরেইরা শহর। ভূমিকম্পের ধাক্কায় ধসে পড়েছে অসংখ্য বহুতল ভবন, আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট ও অফিস। শত শত পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছেন এবং পরবর্তী পরাঘাতের (আফটারশক) আশঙ্কায় খোলা আকাশের নিচে বা পার্কে আশ্রয় নিয়েছেন।
ভূমিকম্পের তীব্রতায় ক্যালি শহরের ‘হাসপাতাল ইউনিভার্সিটিরিও দেল ভালের’ একাংশ ধসে পড়ায় চিকিৎসাসেবা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পেডিয়াট্রিক ও নিওনেটাল বিভাগসহ তিনটি তলা পুরোপুরি ধসে পড়ার কারণে চিকিৎসকরা খোলা মাঠে ও পার্কিং লটে রোগীদের জরুরি চিকিৎসা দিচ্ছেন।
দুর্গত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট আবেলীয়ার্দো দে লা এসপ্রিয়া জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। গৃহহীন পরিবারগুলোর জন্য বাসা ভাড়ার ভর্তুকি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ১৫.৫ মিলিয়ন ডলারের জরুরি সহায়তার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
উদ্ধার কাজে উদ্ধারকারী কুকুর, ক্রেন ও ভারী যন্ত্রপাতির পাশাপাশি সাধারণ মানুষও হাত মিলিয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে তারা হুইসেল বাজিয়ে বা ডেকে জীবিতদের কোনো সাড়াশব্দ পাওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। সময় যত গড়াচ্ছে, নিখোঁজদের ফিরে পাওয়ার আশাও তত ক্ষীণ হয়ে আসছে।