সালমান শাহ হত্যা মামলার আসামি অভিনেতা আশরাফুল হক ডনের সৌদি আরব যাত্রা আটকে দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়ার সময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে আটক হন তিনি। পরে তাকে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার বিবিসি বাংলাকে জানান, ডন হক সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে যাওয়ার জন্য রোববার বিমান বন্দরে আসে। সে সময় ইমিগ্রেশনে পার হতে যায় মি. হক। তার পাসপোর্টটি লক থাকার কারণে তাকে আটকে দেওয়া হয়।
জানা গেছে, গত বছরের ২১ অক্টোবর সালমান শাহ হত্যা মামলাটি হওয়ার পর থেকেই আত্মগোপনে ছিলেন ডন। দীর্ঘদিন পর এবার সৌদি আরবে যাওয়ার উদ্যোগ নেন তিনি। বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করার সময় তার পরিচয় শনাক্ত হলে আটকে দেওয়া হয়। পরে ইমিগ্রেশন পুলিশ বিষয়টি সিআইডিকে জানায়। সিআইডির কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে গিয়ে তাকে নিয়ে যান।
সিআইডি জানিয়েছে, সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর গত বছরের ২১ অক্টোবর রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, অভিনেতা আশরাফুল হক ডনসহ ১১ জনের নাম রয়েছে। আদালতের নির্দেশে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি।
মামলার পর আসামিদের দেশত্যাগ ঠেকাতে আদালত নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন। একই সঙ্গে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে এজাহারভুক্ত আসামিদের বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা দেওয়ার অনুরোধ করেন।
এ অবস্থায় ডনের সৌদি যাওয়ার চেষ্টা এবং বিমানবন্দরে আটকের ঘটনা সামনে এলো। সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান জানিয়েছেন, মামলাটি এখন অধিকতর তদন্তের পর্যায়ে রয়েছে। ডনের গ্রেপ্তারের ফলে তদন্তে অগ্রগতি হবে বলে আশা করছেন তারা।
সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় দীর্ঘদিন ধরে রহস্য ও নানা প্রশ্ন রয়েছে। ১৯৯৬ সালে জনপ্রিয় এই অভিনেতার মৃত্যুর পর একাধিক সংস্থা ঘটনাটি তদন্ত করে। সর্বশেষ পিবিআই তাদের প্রতিবেদনে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করে। তবে অভিনেতার পরিবার ও ভক্তদের একটি অংশ সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছিল।
দীর্ঘ ২৯ বছর পর গত বছর আদালতের নির্দেশে বিষয়টি নতুন করে হত্যা মামলার মাধ্যমে তদন্তের আওতায় আসে। এরপর রমনা থানায় করা মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডি। সেই মামলার চার নম্বর আসামি আশরাফুল হক ডন এবার বিদেশ যাওয়ার সময় গ্রেপ্তার হলেন।