মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইসরায়েলে তিনি এতটাই জনপ্রিয় যে চাইলে দেশটির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী পদে লড়তে পারেন। স্থানীয় সময় বুধবার (২০ মে) কানেকটিকাটের ইউএস কোস্ট গার্ড একাডেমির সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। খবর ইউএসএ টুডের।
ট্রাম্পের এমন স্বভাবসুলভ অহংকার ও রসাত্মক মন্তব্য ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজের জনপ্রিয়তার খতিয়ান টেনে ট্রাম্প বলেন, আমি এই মুহূর্তে ইসরায়েলে ৯৯ শতাংশ জনপ্রিয়তার চূড়ায় আছি। আমি তো সেখানে প্রধানমন্ত্রী পদের জন্যই লড়তে পারি! তাই ভাবছি, এখানে (হোয়াইট হাউসে) আমার মেয়াদ শেষ করার পর হয়তো ইসরায়েলে যাব এবং প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য দাঁড়াব।
চলমান ইরান যুদ্ধ নিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বেশ আধিপত্য বিস্তারের সুরে কথা বলেন। তিনি বলেন, নেতানিয়াহু ঠিক আছে। সে খুব ভালো মানুষ। আমি তাকে যা করতে বলব, সে সেটাই করবে। আমার কাছে সে একজন দুর্দান্ত মানুষ।
ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যার মাত্র একদিন আগে তিনি ইরানের ওপর আরেকটি ‘বড় ধরণের সামরিক আঘাতের’ (অপারেশন স্লেজহ্যামার) হুমকি দিয়েছিলেন। অবশ্য পারস্য উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর অনুরোধে শেষ মুহূর্তে সেই হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত করেন তিনি।
ইসরায়েলের অভ্যন্তরে নেতানিয়াহুর বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান ও ক্রমবর্ধমান সমালোচনা নিয়েও কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। নেতানিয়াহুর পক্ষে সাফাই গেয়ে ট্রাম্প বলেন, ভুলে যাবেন না, সে কিন্তু একজন যুদ্ধকালীন প্রধানমন্ত্রী। আমার মতে, ইসরায়েলে তার সঙ্গে সঠিক আচরণ করা হচ্ছে না। আমি মনে করি না সেখানকার মানুষ বা প্রশাসন তাকে যথাযথ মূল্যায়ন করছে।
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের পর থেকে বিভিন্ন মেয়াদে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে আসছেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক সংঘাতে ট্রাম্প প্রশাসন বরাবরই নেতানিয়াহু সরকারের সবচেয়ে বড় মিত্র ও সমর্থক হিসেবে ভূমিকা রাখছে।
ইসরায়েল প্রধানমন্ত্রী ট্রাম্প
sn/sks