ইরানের নেতৃত্বে বিভক্তির গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন পেজেশকিয়ান

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকের কথা প্রকাশ করে নেতৃত্বে বিভক্তির জল্পনা নাকচ করে দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র যখন তেহরানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বে ভাঙনের দাবি করছে, ঠিক তখনই এই বার্তা দিল ইরান।

আজ বৃহস্পতিবার (৭ মে) দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে পেজেশকিয়ান জানান, খামেনির সঙ্গে তার প্রায় আড়াই ঘণ্টার বৈঠক হয়েছে। সেখানে ‘বিশ্বাস, শান্ত পরিবেশ, ঐক্য ও সরাসরি আলোচনার’ সুযোগ তৈরি হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। খবর আল জাজিরার। 

গত ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর সময় ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর মোজতবা খামেনি দায়িত্ব নেন। এরপর এই প্রথম প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার আনুষ্ঠানিক বৈঠকের তথ্য প্রকাশ্যে এলো।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করেছিলেন, ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বে বড় ধরনের মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সম্প্রতি বলেন, ইরানের নেতৃত্ব কাঠামোতে ভাঙন রয়েছে।

লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল দাবি করেছিল, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কিছু সামরিক সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে পদত্যাগের কথাও ভেবেছিলেন পেজেশকিয়ান। তবে প্রেসিডেন্টের দপ্তর এসব খবরকে ‘ভুয়া’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে ইরানের কৌশলগত সিদ্ধান্তে আইআরজিসির প্রভাব আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ ও যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ মোকাবিলায় সামরিক নেতৃত্বই মূল ভূমিকা রাখছে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক বিশ্লেষক সিনা তুসি বলেন, যুদ্ধের পর ইরানের নেতৃত্ব আরও নিরাপত্তাকেন্দ্রিক হয়ে উঠেছে এবং তারা হরমুজ প্রণালিকে কৌশলগত প্রতিরোধের অন্যতম অস্ত্র হিসেবে দেখছে।

এদিকে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখলেও স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ইরান এমন কোনো চুক্তিতে যাবে না যা আত্মসমর্পণের সমান।

চীন সফর শেষে আরাঘচি বলেন, যুদ্ধের পরের ইরান আগের ইরান নয়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করেছে দেশটি।

তবে যুক্তরাষ্ট্র ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এখনও ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ করার দাবি জানিয়ে যাচ্ছে। ইরান বলছে, তারা সীমিত ছাড় দিতে পারে, কিন্তু পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করবে না।

বিশ্লেষকদের ধারণা, সামনে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে সরাসরি যুদ্ধের বদলে ‘নিয়ন্ত্রিত উত্তেজনা’ ও মাঝেমধ্যে কূটনৈতিক আলোচনার পথই বেশি দেখা যেতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *