আধুনিক ড্রাগ ডেলিভারি সিস্টেম উদ্ভাবন করে জাপানের মর্যাদাপূর্ণ ‘এশিয়ান ইয়াং বায়োটেকনোলজিস্ট অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ অর্জন করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ফার্মেসি বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. জান্নাতুল ফেরদৌস। আজ মঙ্গলবার (২ জুন) পুরস্কার পাওয়ার বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করেন।
বায়োটেকনোলজি গবেষণায় এই অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জাপানের সোসাইটি ফর বায়োটেকনোলজি (এসবিজে) কর্তৃক সহযোগী অধ্যাপক ড. জান্নাতুল ফেরদৌসকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে ড. জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘আমার গবেষণার মূল বিষয় ছিল ন্যানোটেকনোলজির মাধ্যমে উন্নত ড্রাগ ডেলিভারি সিস্টেম উদ্ভাবন। ওষুধ তৈরির ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দ্রাব্যতা ও স্থায়িত্ব সংক্রান্ত নানা সমস্যার মুখোমুখি হই। এ ছাড়া গ্রোথ ফ্যাক্টর, প্রোটিনসহ বিভিন্ন জৈব অণু নিয়ে কাজ করতে গিয়েও নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ দেখা দেয়।
ড. জান্নাতুল ফেরদৌস আরও বলেন, আমার গবেষণার লক্ষ্য ছিল ন্যানোটেকনোলজি ব্যবহার করে এমন একটি ক্যারিয়ার সিস্টেম তৈরি করা, যা এসব জৈব অণুকে কার্যকরভাবে নির্দিষ্ট লক্ষ্যস্থলে পৌঁছে দিতে সক্ষম হবে। এই প্রযুক্তি বিভিন্ন ধরনের চর্মরোগের চিকিৎসা, চোখে ওষুধ সরবরাহ, এমনকি ক্যানসার থেরাপিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। মূলত একটি বহুমুখী ও কার্যকর ডেলিভারি সিস্টেম হিসেবে ‘ন্যানোজেল ডিসপারশন’ প্রযুক্তির উন্নয়নই ছিল আমার গবেষণার প্রধান বিষয়। এই গবেষণার জন্য আমরা জাপানে একটি পেটেন্টও অর্জন করেছি, যা পরবর্তী সময়ে গবেষণাটিকে আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি করবে। ভবিষ্যতে এটিকে একটি আদর্শ ড্রাগ ডেলিভারি সিস্টেম হিসেবে আরও উন্নত করার সম্ভাবনা রয়েছে।
ড. জান্নাতুল ফেরদৌস আরও বলেন, আমি যে পুরস্কারটি পেয়েছি, তা আমার ব্যক্তিগত জীবনের অন্যতম বড় অর্জন। একই সঙ্গে কুবির একজন শিক্ষক হিসেবে এই স্বীকৃতি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাপ্তি।
ন্যানোজেল প্রযুক্তি আবিষ্কার বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার হতে পারে উল্লেখ করে ড. জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘এটি একটি আধুনিক ও উন্নত ড্রাগ ডেলিভারি প্রযুক্তি। বর্তমানে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তির আওতায় প্রযুক্তিগত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে এই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশীয় গবেষক ও ওষুধ কোম্পানিগুলো নিজস্ব পেটেন্ট, নতুন ড্রাগ মলিকিউল এবং উন্নত ক্যারিয়ার সিস্টেম উদ্ভাবনের সুযোগ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ক্যানসারের মতো জটিল ও দুরারোগ্য রোগের চিকিৎসায় এ প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম।’
সোসাইটি ফর বায়োটেকনোলজি (এসবিজে) জাপানের প্রাচীন বৈজ্ঞানিক সংগঠন। ১৯২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এ সংগঠনটি জীববিজ্ঞান, জীবপ্রযুক্তি (বায়োটেকনোলজি) এবং জীবনবিজ্ঞানের তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক গবেষণার উন্নয়নে কাজ করে আসছে।