আজ চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে মুখোমুখি আর্সেনাল-পিএসজি

দীর্ঘ ২২ বছরের অপেক্ষা ফুরিয়েছে। মিকেল আর্তেতার হাত ধরে টানা তিন মৌসুম রানার্সআপ হওয়ার গেরো কাটিয়ে অবশেষে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ট্রফি ঘরে তুলেছে আর্সেনাল। পাহাড়সম মানসিক চাপ দূর হওয়ায় গানারদের আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে।

প্রিমিয়ার লিগ জয়ের পর উত্তর লন্ডনের এই ক্লাবটির লক্ষ্য এখন আরও বড়। এবার তারা ঘুচাতে চায় ইউরোপসেরা হতে না পারার চিরকালের এক অপূর্ণতা। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সোনালী ট্রফিতে চুমু খেয়ে ক্লাব ইতিহাসে প্রথমবার ‘ডাবল’ জয়ের স্বপ্ন দেখছে আর্সেনাল।

তবে গানারদের এই স্বপ্ন সত্যি করতে হলে পাড়ি দিতে হবে এক বিশাল পর্বত। ফাইনালে তাদের রুখতে হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের (পিএসজি) বিধ্বংসী আক্রমণের ঝড়। প্রতিপক্ষ যেই হোক না কেন, ফরাসি জায়ান্টরা যেভাবে অলআউট ফুটবলে ঝাঁপিয়ে পড়ে, তাতে ফাইনালে নিজেদের গোলপোস্ট সুরক্ষিত রাখাই আর্সেনালের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

স্বপ্নের এই ফাইনাল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে হাঙ্গেরির বুদাপেস্টের পুসকাস অ্যারেনায়। আজ শনিবার (৩০ মে) বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় শুরু হবে ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের এই শ্রেষ্ঠত্বের মহারণ।

লুইস এনরিকের অধীনে পিএসজির মূল মন্ত্রই হলো অলআউট অ্যাটাক বা আক্রমণের তোড়ে প্রতিপক্ষকে ভাসিয়ে দেওয়া। একবার গোলমুখ খুলে গেলে ফরাসি এই দলটিকে আটকে রাখা প্রায় অসম্ভব। এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ গত আসরের ফাইনাল। সেবার ইন্টার মিলানকে ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত করে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জিতেছিল তারা।

প্যারিসের এই দলটিতে ওসমান দেম্বেলে, আশরাফ হাকিমিদের মতো একঝাঁক তারকা থাকলেও তারা মূলত দলগত শক্তিতে বিশ্বাসী। বল পায়ে থাকুক বা না থাকুক, তাদের ক্ষিপ্র গতি প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে সবসময় তটস্থ করে রাখে। ইতোমধ্যে ফরাসি সুপার কাপ ও লিগ আঁ-র শিরোপা জেতা পিএসজি এবার যেকোনো মূল্যে ইউরোপের সিংহাসন ধরে রাখতে মরিয়া। চলতি আসরের নকআউট পর্বে চেলসি, লিভারপুল ও বায়ার্ন মিউনিখের মতো পরাশক্তিদের উড়িয়ে দিয়েই ফাইনালে এসেছে তারা।

পিএসজি যতই বিধ্বংসী হোক না কেন, চলতি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ধারাবাহিক ও একমাত্র অপরাজিত দল আর্সেনাল। প্রাথমিক পর্বের ৮ ম্যাচের সবকটিতেই জিতেছে তারা। এবারের আসরে এখন পর্যন্ত ২৯টি গোল করার বিপরীতে আর্তেতার দল হজম করেছে মাত্র ৬টি গোল।

রক্ষণে উইলিয়াম সালিবা ও গাব্রিয়েল মাগালিয়াইসের জুটি যেকোনো আক্রমণভাগের জন্যই এক দুর্ভেদ্য প্রাচীর। পাশাপাশি কর্নার কিক থেকে হেডারে গোল করতেও ওস্তাদ এই ডিফেন্ডার জুটি। গোলপোস্টের নিচে দাভিদ রায়া এবার ১৪ ম্যাচের ৯টিতেই কোনো গোল হজম করেননি, যা গানারদের বাড়তি স্বস্তি দিচ্ছে। এছাড়া মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণে থাকবেন অভিজ্ঞ ডেক্লান রাইস ও অধিনায়ক মার্টিন ওদেগোর।

শুধু রক্ষণ নয়, আর্সেনালের আক্রমণভাগেও রয়েছে দারুণ সব অস্ত্র। চোট কাটিয়ে ফর্মে ফেরার আভাস দিয়েছেন দলের প্রধান তারকা বুকায়ো সাকা। আর গত গ্রীষ্মে দলে যোগ দেওয়া সুইডিশ স্ট্রাইকার ভিক্তর ইয়োকেরেশ এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ইতোমধ্যে ৫টি গোল করে নিজের জাত চিনিয়েছেন।

আর্সেনালের এই লড়াকু মনোভাবের প্রশংসা খোদ প্রতিপক্ষ কোচও করেছেন। ফাইনালের আগে পিএসজি কোচ লুইস এনরিকে বলেন, ‘বল যখন পায়ে থাকে না, তখন আর্সেনাল বিশ্বের সেরা দল, এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। আর বল পায়ে থাকলে তো তারা প্রচুর গোল করতে পারে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *