অর্থ কেলেঙ্কারি এড়াতে সপরিবারে আত্মগোপনে স্বর্ণ ব্যবসায়ী

নিখোঁজ নয়, স্বর্ণ বন্ধক রেখে টাকা দেওয়ার ব্যবসা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঋণের বোঝায় আর্থিক সংকটে পড়ে চাঁদপুর শহরের এস কে শিল্পালয়ের স্বত্বাধিকারী পিন্টু দাস স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন বলে জানা গেছে। বন্ধক রাখা স্বর্ণ ও টাকা ফেরত না পাওয়ায় ভুক্তভোগীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় পিন্টু দাসের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগও করা হয়েছে।

আজ বুধবার (২৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ। তিনি জানান, পিন্টু দাসসহ তার পরিবারের চার সদস্য নিজ থেকেই আত্মগোপনে বা পালিয়ে গেছেন। বিষয়টি না জেনে অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের ‘নিখোঁজ’ হওয়ার খবর ছড়াচ্ছে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় নিখোঁজের বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়নি।

আত্মগোপনে থাকা পরিবারের সদস্যরা হলেন পিন্টু দাস, তার স্ত্রী রিমি, বড় ছেলে প্রিয়ম এবং ছোট ছেলে রুপম দাস। তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে।

পিন্টু দাসের আত্মীয় উপমা দে জানান, পিন্টু দাস স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে চাঁদপুর শহরের একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। বিভিন্ন কারণে তিনি ঋণগ্রস্ত ছিলেন বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পিন্টু দাস বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে স্বর্ণ বন্ধক রেখে টাকা দেওয়ার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, স্বর্ণ বন্ধক নিয়ে টাকা দেওয়ার পর নির্ধারিত সময়ে তা ফেরত দিতে পারেননি তিনি। পাশাপাশি বিভিন্ন সমিতি থেকেও ব্যবসার জন্য ঋণ নেওয়ায় তিনি আর্থিক সংকটে পড়েন।

একাধিকবার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের স্থান পরিবর্তনের পর সর্বশেষ শহরের কুমিল্লা সড়কের আখন্দ মার্কেটের নিচতলায় ‘এস কে শিল্পালয়’ নামে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন পিন্টু দাস। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে স্বর্ণের বাজারমূল্যের তুলনায় অনেক কম টাকা দিয়ে স্বর্ণ বন্ধক রাখা হতো।

রঘুনাথপুরের বাসিন্দা মনসুর খানের ছেলে রাসেল খান অভিযোগ করেন, তিনি পিন্টু দাসের কাছে আড়াই ভরি স্বর্ণালংকার ৫০ হাজার টাকায় বন্ধক রেখেছিলেন। পরে ৫০ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে স্বর্ণালংকার নিতে গেলে পিন্টু দাস তাকে পরের দিন আসতে বলেন। এরপর তিনি জানতে পারেন, পিন্টু দাস পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাসা ছেড়ে চলে গেছেন।

রাসেল খান জানান, স্বর্ণ ফেরত ও টাকা না পাওয়ায় তিনি গত ২৪ আগস্ট পিন্টু দাসের বিরুদ্ধে মডেল থানায় অভিযোগ করেছেন।

এদিকে দক্ষিণ গুণরাজদীর বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম ১২ আনা এবং শুভঙ্কর মজুমদার ১০ আনা স্বর্ণ পিন্টু দাসের কাছে বন্ধক রাখার দাবি করেছেন। তারাও বন্ধক রাখা স্বর্ণ ফেরত পাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

এ বিষয়ে মডেল থানার ওসি ফয়েজ আহমেদ জানান, পিন্টু দাসসহ তার পরিবারের চার সদস্য আত্মগোপনে রয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তারা নিখোঁজ নন। পরিবারের পক্ষ থেকেও কোনো জিডি করা হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *