আগের দিনই জয়ের মঞ্চটা অনেকটা তৈরি করে রেখেছিল ভারত। এদিন কিছুটা প্রতিরোধ গড়েছিল স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা। ম্যাচে জোড়া সেঞ্চুরির আশা জাগিয়ে লঙ্কানদের আশা বাঁচিয়ে রেখেছিলেন সোনাল দিনুশা। এতে ভারতের জন্য কিছুটা অপেক্ষা বাড়ছিল। এরপরই সফরকারীদের ত্রাতা হয়ে আসেন মানাভ সুতার। দিনুশাকে ফেরানোর পর মুহূর্তেই শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং লাইনআপ ধসিয়ে দেন এই স্পিনার। ক্যারিয়ারের মাত্র দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নেমেই ম্যাচে ১০ উইকেট শিকার করে দলকে বড় জয় উপহার দিলেন মানাভ।
এর মধ্য দিয়ে নিজেদের ইতিহাসের স্মরণীয় ৬০০তম টেস্ট ম্যাচটি দারুণ এক জয়ে রাঙাল টিম ইন্ডিয়া। গল টেস্টে শ্রীলঙ্কাকে ১৬৫ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারত।
ম্যাচের জয় অনেকটাই পাকা করে রেখেছিল ভারত। শেষ দিনে শ্রীলঙ্কার সামনে বাঁচার একমাত্র উপায় ছিল টানা বৃষ্টি অথবা দুর্দান্ত কোনো প্রতিরোধ। তবে তার কিছুই বাস্তবে রূপ নেয়নি। ফিফটি পূর্ণ করার পরই সাজঘরে ফিরে যান লঙ্কান অধিনায়ক ধানাঞ্জায়া ডি সিলভা। প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করা দিনুশা দ্বিতীয় ইনিংসে ৮৪ রান করে আউট হন।
মাইলফলক ছোঁয়া এই টেস্টে ভারতের জয়ের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান দুই তরুণের। ক্যারিয়ারের মাত্র তৃতীয় টেস্ট খেলতে নেমে প্রথম ইনিংসে ১৬৭ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৪ রানের দুর্দান্ত দুটি ইনিংস খেলে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতে নেন দেবদূত পাডিক্কাল।
অন্যদিকে, বল হাতে জাদু দেখান মানাভ সুতার। দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৫ রান খরচ করে ৬ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি প্রথম ইনিংসেও ৭৬ রান দিয়ে ৪ উইকেট শিকার করেছিলেন তিনি।
গত জুনে নিজের অভিষেক টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৩৩ রান দিয়ে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন সুতার। ৪৭ বছরের পুরোনো রেকর্ড ভেঙে ভারতের হয়ে অভিষেকে বাঁহাতি স্পিনে সেরা বোলিংয়ের কীর্তি গড়েছিলেন তিনি। আর নিজের দ্বিতীয় টেস্টেই এমন দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিলেন, জাতীয় দল থেকে তাকে সহজে আর বাইরে রাখা যাবে না।
৪ উইকেটে ৮৪ রান নিয়ে ম্যাচের শেষ দিন শুরু করেছিল শ্রীলঙ্কা। জয়ের জন্য তাদের তখনো প্রয়োজন ছিল ২৮৮ রান। আগের দিন বিকেলে প্রতিরোধ গড়া ধানাঞ্জায়া ও দিনুশা নতুন দিনের শুরুটাও বেশ দেখেশুনে করেন। প্রথম এক ঘণ্টা তারা কোনো বিপদ ছাড়াই পার করে দেন। তবে ভারতের মাথাব্যথার কারণ হয়ে ওঠা ৯৫ রানের এই জুটি অবশেষে ভেঙে দেন রবীন্দ্র জাদেজা। সুইপ করতে গিয়ে ৫৯ রান করে আউট হন ধানাঞ্জায়া।
অবশ্য এই উইকেটের পেছনেও ভূমিকা ছিল সুতারের, কারণ ক্যাচটি ধরেছিলেন তিনিই। প্রথম ইনিংসে ৮০ রান করা নিরোশান ডিকওয়েলা দ্বিতীয় ইনিংসে ফেরেন মাত্র ১০ রান করে। যশস্বী জয়সওয়ালের সঙ্গে কথার লড়াইয়ে জড়িয়ে বড় শট খেলতে গিয়ে প্রসিধ কৃষ্ণার বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।
অভিষিক্ত কেশারা নুয়ান্থাকে সঙ্গে নিয়ে এরপর একাই লড়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন দিনুশা। শ্রীলঙ্কার সব আশার আলো তিনিই ছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত বাধা হয়ে দাঁড়ান সেই সুতারই। লেগ স্লিপে ক্যাচ বানিয়ে দিনুশাকে থামান এই স্পিনার।