হামাসের নতুন প্রধান কে এই খলিল আল-হাইয়া?

ফিলিস্তিনি ইসলামপন্থি আন্দোলন হামাস তাদের নতুন নেতার নাম ঘোষণা করেছে। ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষা আন্দোলনের এই গোষ্ঠীটি তাদের চিরশত্রু ইসরায়েলের সঙ্গে পরোক্ষ যুদ্ধবিরতির আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়া প্রবীণ নেতা খলিল আল-হাইয়াকে প্রধান নেতা হিসেবে নির্বাচিত করেছে।

আজ সোমবার (২০ জুলাই) হামাস তাদের দীর্ঘদিনের নেতা খালেদ মেশালের চেয়ে খলিল আল-হাইয়াকে অগ্রাধিকার দিয়ে তাদের নতুন প্রধান হিসেবে মনোনীত করে।

এ প্রসঙ্গে হামাসের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, ‘খলিল আল-হাইয়া বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।’ তিনি আরও জানান, আগামী সপ্তাহে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

হামাসের অন্য একটি সূত্র জানায়, কঠিন নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং দখলদার ইসরায়েলিদের হাতে বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক ও সামরিক নেতা নিহত হওয়ার কারণে অত্যন্ত জটিল ও গোপন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে।

মুসলিম ব্রাদারহুডের সাবেক কর্মকর্তা এবং হামাসের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা খলিল হাইয়াকে একজন মধ্যপন্থী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তিনি নিহত নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ারের স্থলাভিষিক্ত হবেন। তিনি ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে দোহায় একটি ইসরায়েলি হত্যাচেষ্টা থেকে বেঁচে যান। ওই হামলায় তার এক ছেলে এবং চিফ অব স্টাফসহ বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছিল।

কাতারের রাজধানী দোহা হামাসের একটি অনানুষ্ঠানিক ঘাঁটি হিসেবে কাজ করে, যেখান থেকে তারা আরব ও ইসলামি বিশ্বের সাথে সম্পর্ক রক্ষা করতে পারে।

খলিল আল-হাইয়ার ঘনিষ্ঠ এক হামাস কর্মকর্তা জানিয়েছেন, লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং কাতার, মিশর ও আলজেরিয়ার মতো আরব দেশগুলোর পাশাপাশি তাদের আন্দোলনের প্রধান আর্থিক ও সামরিক পৃষ্ঠপোষক ইরানের সঙ্গে আল-হাইয়ার সুসম্পর্ক রয়েছে।

বাস্তববাদী ও রক্ষণশীল নেতা

খলিল আল-হাইয়া সম্পর্কে বলতে গিয়ে হামাসের ওই কর্মকর্তা তার বাস্তববাদী ও রক্ষণশীল মনোভাবের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘খলিল আল-হাইয়া সহজে উত্তেজিত হন না এবং রাজনৈতিক ব্যুরোর সমস্ত সদস্যের পাশাপাশি সামরিক কমান্ডারদের কাছেও তিনি শ্রদ্ধেয়।’

খলিল আল-হাইয়া গাজার একটি ধর্মীয় ও রক্ষণশীল পরিবারে বেড়ে ওঠেন, এরপর তিনি সেখানকার ইসলামিক ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করেন। পরে তিনি জর্ডান থেকে স্নাতকোত্তর এবং সুদান থেকে ইসলামি আইনে ডক্টরেট ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।

খলিল আল-হাইয়া ১৯৯০-এর দশকের শেষের দিকে ইসরায়েলি কারাগারে তিন বছর বন্দি ছিলেন। তিনি ২০০৭ ও ২০১৪ সালে আরও দুটি হত্যাচেষ্টার ঘটনা থেকে বেঁচে যান।

সশস্ত্র সংগ্রামের গুরুত্বের ওপর বারবার জোর দেওয়া আল-হাইয়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে তার পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্যকে হারিয়েছেন। এর মধ্যে ২০০৭ সালে উত্তর গাজা উপত্যকায় তার বাড়ি লক্ষ্য করে চালানো হামলায় তার স্ত্রী এবং তিন সন্তান নিহত হয়।

২০০৬ সালে আল-হাইয়া হামাসের সংসদীয় ব্লকের প্রধান ছিলেন, যা সে সময় নির্বাচনে জয়ী হয়েছিল। তবে পরবর্তী মাসগুলোর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মতবিরোধ ইসলামপন্থি আন্দোলন এবং ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের দল ফাতাহ-র মধ্যে বিভক্তির সূচনা করেছিল।

আল-হাইয়ার পূর্বসূরি সিনওয়ার গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় নিহত হয়েছিলেন। ইসরায়েল ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার জন্য সিনওয়ারকে অন্যতম প্রধান পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত করে থাকে। ওই হামলার এক বছর পর গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে তিনি নিহত হন। তার মৃত্যুর পর থেকে, সিনিয়র কর্মকর্তা মোহাম্মদ দরবিশের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি পরিষদ হামাস পরিচালনা করে আসছিল।

হামাসের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই পরিষদটি ভেঙে দেওয়া হবে এবং এর সদস্যরা গোষ্ঠীর শূরা কাউন্সিলের কাছে তাদের পদত্যাগপত্র জমা দেবেন।

হামাসের ওই কর্মকর্তা আরও জানান, কমিটি গঠন এবং হামাসের নেতৃত্বস্থানীয় সংস্থাগুলোর পুনর্গঠন শুরু করতে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ইস্তাম্বুলে রাজনৈতিক ব্যুরোর বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *