হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন বাহিনী ঢুকলে হামলা করা হবে : ইরান

মার্কিন বাহিনী হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করলে তাদের ওপর হামলা চালানো হবে বলে হুঁশিয়ার করে দিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী। এই জলপথ দিয়ে যাতায়াত করা জাহাজগুলোকে পাহারা (এসকর্ট) দিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘোষণা দেওয়ার পরপরই তেহরান এই হুঁশিয়ারি দিল। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।

গত ৮ এপ্রিল থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে আলোচনা স্থবির হয়ে আছে। এই অচলাবস্থার প্রধান কারণ হলো হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরানের কঠোর নিয়ন্ত্রণ।

গতকাল রোববার ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে পাহারা দিয়ে জাহাজ চলাচলের এই নতুন সামুদ্রিক অভিযানের উদ্দেশ্য ‘মানবিক’। অবরোধের কারণে আটকে পড়া অনেক জাহাজের ক্রুদের কাছে খাবার ও অন্যান্য রসদ ফুরিয়ে আসছে বলেই এই উদ্যোগ।

নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ ট্রাম্প আজ সোমবার (৪ মে) থেকে অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়ে লেখেন, ‘আমরা জাহাজ ও ক্রুদের নিরাপদে প্রণালি থেকে বের করে আনতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’

জবাবে ইরানের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ চলাচলের ক্ষেত্রে ‘যেকোনো পরিস্থিতিতেই’ তাদের বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআইবি-তে প্রচারিত এক বিবৃতিতে মেজর জেনারেল আলি আবদুল্লাহি বলেন, ‘আমরা সতর্ক করছি যে, যেকোনো বিদেশি সশস্ত্র বাহিনী—বিশেষ করে আগ্রাসী মার্কিন সামরিক বাহিনী—যদি হরমুজ প্রণালির কাছে আসার বা প্রবেশের চেষ্টা করে, তবে তাদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে এবং হামলা চালানো হবে।’

হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে ইরান বিশ্ব অর্থনীতিতে তেল, গ্যাস এবং সারের বড় ধরনের সরবরাহ ব্যাহত করেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর পাল্টা অবরোধ আরোপ করেছে।

ট্রাম্প তার পোস্টে আরও বলেন, তিনি জানেন যে তার প্রতিনিধিরা ইরানের সঙ্গে অত্যন্ত ইতিবাচক আলোচনা করছে এবং এই আলোচনা সবার জন্য খুব ইতিবাচক কিছু বয়ে আনতে পারে। তবে গত সপ্তাহে যুদ্ধ অবসানে তেহরান যে ১৪ দফার পরিকল্পনা পেশ করেছিল, সে সম্পর্কে তিনি সরাসরি কিছু বলেননি।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, হরমুজ অভিযানে তারা গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার, ১০০-র বেশি স্থল ও সমুদ্রভিত্তিক বিমান, বহুমুখী ড্রোন প্ল্যাটফর্ম এবং ১৫ হাজার সামরিক সদস্য কাজে লাগাবে। সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা এএক্সএস মেরিন-এর তথ্য অনুযায়ী, ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত পারস্য উপসাগরে ৯০০-র বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ অবস্থান করছিল।

ইরানি প্রস্তাব সম্পর্কে জানে এমন দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন নিউজ ওয়েবসাইট এক্সিওস জানিয়েছে, তেহরান হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া, মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া এবং যুদ্ধ অবসানের বিষয়ে আলোচনার জন্য এক মাসের সময়সীমা নির্ধারণ করেছে।

রোববার ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ট্রাম্পের ওপর চাপ সৃষ্টি করে বলেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে অবশ্যই ‘একটি অসম্ভব অভিযান অথবা ইরানের সঙ্গে একটি খারাপ চুক্তির’ মধ্য থেকে একটি বিষয়কে বেছে নিতে হবে।

ওয়াশিংটনের ইউরোপীয় মিত্ররা উদ্বিগ্ন যে, প্রণালিটি যত বেশি সময় বন্ধ থাকবে, তাদের অর্থনীতি তত বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়াদেফুল এটি পুনরায় খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে এক ফোনালাপে ওয়াদেফুল জোর দিয়ে বলেন, জার্মানি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পক্ষে, তবে ইরানকে অবশ্যই সম্পূর্ণ ও যাচাইযোগ্যভাবে পারমাণবিক অস্ত্র পরিত্যাগ করতে হবে এবং অবিলম্বে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে হবে।

এদিকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সমন্বিত পদক্ষেপে প্রণালিটি খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *