হজের পরই বদলে গেলেন হাসান মাসুদ, ছেড়ে দিলেন অভিনয়

একসময় নিয়মিত অভিনয় করলেও দীর্ঘদিন ধরেই অভিনয় থেকে দূরে রয়েছেন অভিনেতা, পরিচালক ও লেখক হাসান মাসুদ। নাটক ও চলচ্চিত্রে নানা চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের কাছে পরিচিতি পাওয়া এই অভিনেতা এখন অনেকটাই নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন। অভিনয় থেকে দূরে সরে যাওয়ার কারণ এবং বর্তমান জীবনযাপন নিয়ে সম্প্রতি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।

স্যাটেলাইটভিত্তিক এক বেসরকারি চ্যানেলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হাসান মাসুদ জানান, জীবনে পরিবর্তন আসার কারণেই অভিনয় থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন তিনি। এখন কেবল বিজ্ঞাপনের কাজ পেলেই অভিনয় করেন।

হাসান মাসুদ বলেন, ‘আমি নিজেকে আসলে একটু গুটিয়ে নিয়েছি। আমি এখন আর অভিনয় করি না। একটা পরিবর্তন এসেছে আমার জীবনে। সেই কারণেই এখন শুধুমাত্র বিজ্ঞাপনের কাজ পেলে করি, না হলে করি না। একটু ভাববাদী হয়ে গিয়েছি। মানে ধার্মিক হয়ে গিয়েছি।’

নিজের সাম্প্রতিক ধর্মীয় জীবনের প্রসঙ্গ টেনে এই অভিনেতা বলেন, ‘আমি এবার হজ করেছি। যে কারণে ৪১ দিন ছিলাম ওখানে—মক্কা-মদিনায়। তবে আসলে আমার পরিবর্তনটা এসেছে আরও আগে থেকে। এখন পুরোপুরিই আমি পরিবর্তিত, সেটা বলতে পারেন।’

জীবনের এই পরিবর্তনের সঙ্গে বই পড়ার অভ্যাসেও ছেদ পড়েছে বলে জানান হাসান মাসুদ। একসময় প্রচুর বই পড়লেও এখন আর বই পড়েন না তিনি। তার ভাষায়, অতিরিক্ত পড়াশোনা একপর্যায়ে তাকে যান্ত্রিক করে তুলেছিল।

তিনি বলেন, ‘আসলে বই পড়ার অধ্যায়টা আমার অনেক আগে শেষ হয়ে গেছে। আমি এত বেশি পড়েছি, এত বেশি পড়েছি যে শেষের দিকে আমি যন্ত্রের মতো হয়ে গিয়েছিলাম। আমার ভেতরে কোনো ভাবাবেগ কাজ করত না।’

নিজের সেই সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে হাসান মাসুদ আরও বলেন, ‘আমার সামনে যদি একটা ট্রাকে চাপা পড়ে একজন মারা যেত, তখন আমি ভাবতাম—লোকটার ভুলেই তো লোকটা মারা গেছে। এরকম যন্ত্রের মতো হয়ে গিয়েছিলাম। কোনো সেন্টিমেন্ট আমার ভেতরে কাজ করত না।’

এরপর নিজের সংগ্রহে থাকা প্রায় ১২০০ বই বিক্রি করে দেওয়ার কথাও জানান তিনি। হাসান মাসুদ বলেন, ‘এরপর আমি প্রায় ১২০০ বই নীলক্ষেতে বিক্রি করে দিয়েছি, একেবারে পানির দামে। এরপর থেকে আমি আর বই পড়ি না।’

১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ক্যাডেট হিসেবে যোগ দেন হাসান মাসুদ। সাত বছর পর ১৯৯২ সালে ক্যাপ্টেন পদে অবসর নেন তিনি। এরপর সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত হন। ‘দ্য নিউ নেশন’-এ কাজ করার পর ১৯৯৫ সালে ‘দ্য ডেইলি স্টার’-এ ক্রীড়া প্রতিবেদক হিসেবে যোগ দেন। ২০০৪ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত বিবিসি বাংলার সংবাদদাতা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

সাংবাদিকতার পাশাপাশি অভিনয়েও নিজের জায়গা তৈরি করেন হাসান মাসুদ। মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘ব্যাচেলর’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ২০০৩ সালে বড় পর্দায় তার অভিনয় অভিষেক হয়। এরপর ‘মেড ইন বাংলাদেশ’সহ বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন তিনি। পাশাপাশি অসংখ্য নাটকেও দেখা গেছে তাকে।

‘হাউসফুল’, ‘ট্যাক্সি ড্রাইভার’, ‘এফডিসি’, ‘বউ’, ‘খুনসুটি’, ‘গ্র্যাজুয়েট’, ‘রঙের দুনিয়া’, ‘আমাদের সংসার’, ‘গণি সাহেবের শেষ কিছুদিন’ ও ‘বাতাসের ঘর’সহ বেশ কিছু নাটকে তার অভিনয় দর্শকের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

অভিনয়ের পাশাপাশি সংগীতের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন হাসান মাসুদ। ‘ব্যাচেলর’ চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় গান ‘আজকে না হয় ভালোবাসো’-তে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। ২০০৬ সালের ভালোবাসা দিবসে প্রকাশিত হয় তার প্রথম গানের অ্যালবাম ‘হৃদয়ঘটিত’।

তবে ক্যারিয়ারের নানা অধ্যায় পেরিয়ে বর্তমানে অভিনয় থেকে অনেকটাই দূরে রয়েছেন হাসান মাসুদ। ধর্মীয় জীবন ও নিজের মতো করে সময় কাটানোতেই এখন বেশি মনোযোগী এই অভিনেতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *