দুর্নীতি ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের সহকারী উপ-খাদ্য পরিদর্শক মনিরুল ইসলাম, তার স্ত্রী ও বাবাকে পৃথক দুটি মামলায় কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মনিরুল ইসলামকে দুই মামলায় ৫ বছর করে মোট ১০ বছর এবং তার বাবা ও স্ত্রীকে একটি করে মামলায় ৫ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আসামিদের মোট ১ কোটি ২৪ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সমন্বিত পাবনা কার্যালয়ের দায়ের করা পৃথক মামলার বিচারকাজ শেষে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে পাবনার স্পেশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আবু সালেহ মো. সালাহউদ্দিন খাঁ এই রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদক পাবনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক শহীদুল আলম সরকার।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার চরদমদমা এলাকার বাসিন্দা ও কামারখন্দ খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের সহকারী উপ-খাদ্য পরিদর্শক মনিরুল ইসলাম, তার বাবা শহিদুল ইসলাম প্রামাণিক এবং স্ত্রী ডলি বেগম। রায়ের সময় আসামিরা পলাতক ছিলেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, প্রধান আসামি মনিরুল ইসলামের অবৈধভাবে অর্জিত ৫৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা দিয়ে তার বাবা শহিদুল ইসলাম প্রামাণিক বাড়ি নির্মাণ করেন এবং স্ত্রী ডলি বেগম ৬০ লাখ টাকা ব্যাংকে ফিক্সড ডিপোজিট (ডিপিএস) করেন। এ বিষয়ে অনুসন্ধান ও তদন্ত শেষে ২০২৩ সালে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করে দুদক। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এই রায় দেন।
রায়ে আদালত মনিরুল ইসলামকে দুটি মামলায় ৫ বছর করে মোট ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং দুই দফায় ৫৪ লাখ ৩০ হাজার ও ৬০ লাখ ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। অপর দুই আসামি- বাবা শহিদুল ইসলাম প্রামাণিক ও স্ত্রী ডলি বেগমকে ৫ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ৫ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া আসামিদের নামে থাকা সংশ্লিষ্ট স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।