সাহায্য চেয়ে কেমিক্যাল প্রয়োগ, শয়তানের নিঃশ্বাস চক্রের তিন সদস্য গ্রেপ্তার

কেমিক্যাল প্রয়োগ করে নারীদের স্বর্ণালংকার ও টাকা হাতিয়ে নেওয়া শয়তানের নিঃশ্বাস চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে নওগাঁ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার (২০ জুন) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল জেলার পুরাতন বাসস্ট্যান্ড থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার চনপাড়া এলাকার আবু হাসান, বাবু ও সবুজ।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের সার্বিক দিকনির্দেশনায় প্রায় এক সপ্তাহব্যাপী এই অভিযানটি পরিচালনা করেন ডিবি পুলিশের একদল সদস্য।

গতকাল রোববার (২১ জুন) বিকেলে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম তাঁর কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।

পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম বলেন, গত কয়েক মাসে নওগাঁ জেলায় একদল অপরাধী শহরের কয়েকটি স্থানে বয়স্ক নারীদের টার্গেট করে। এরপর তারা কথিত শয়তানের নিঃশ্বাস অর্থাৎ এক বিশেষ ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার করে ওই নারীদের সম্মোহিত করে তাদের কাছে থাকা অলংকার ও টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেয়।

এসপি বলেন, এই কেমিক্যালটা কোনোভাবে কাউকে নাকে প্রয়োগ করলে সেই ব্যক্তি কিছু সময়ের জন্য স্মৃতিভ্রম হয়ে যান এবং অপরাধীর কথামতো কাজ করেন। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় আক্রান্ত ব্যক্তি নিজেই তার কানের দুল স্বর্ণালংকার এবং টাকা পয়সা অপরাধীর হাতে স্বেচ্ছায় তুলে দেন। এমনকি কখনও বাসার আলমারি খুলেও অলংকার এবং টাকা পয়সা অপরাধীদের হাতে তুলে দিচ্ছে।

এসপি তারিকুল ইসলাম বলেন, নওগাঁ থানায় এ বিষয়ে তিনটি মামলা হয়েছে। সেই সব মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ বেশ কয়েকবার নারায়ণগঞ্জ জেলায় অভিযান চালায়। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্লেষণ করে জেলা গোয়েন্দা শাখা জানতে পারে একটি চক্র টাঙ্গাইলে একই ধরনের ঘটনা ঘটাতে যাচ্ছে। এই সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার ডিবি পুলিশের একটা চৌকস দল টাঙ্গাইল জেলার পুরাতন বাস স্ট্যান্ড থেকে শয়তানের নিঃশ্বাস চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করে।

এসপি বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় এই চক্রটি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানা এলাকায় রয়েছে। তাদের আট থেকে দশটি গ্রুপ রয়েছে। তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে মানুষকে কেমিক্যাল প্রয়োগ করে এই ধরনের অপরাধ করে বেড়ায়। ইতোমধ্যে তারা নারায়ণগঞ্জ, নওগাঁ ও খুলনা জেলায় কমপক্ষে দশটি অপরাধ সংগঠিত করেছে।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম আরও বলেন, অপরাধ সংগঠনের ক্ষেত্রে তারা বয়স্ক নারীদের টার্গেট করত। প্রথমে একজন অভিনয় করে সেই মহিলার কাছে সাহায্য চায়, পরে একজন এসে মহিলার সাথে কথা বলার চেষ্টা করে এবং অপরজন এসে সেই মহিলাকে শয়তানের নিঃশ্বাস বা কেমিক্যাল স্প্রে করে। এরপর আক্রান্ত মহিলা তাদের কথামতো সম্মোহিত হয়ে তার অলংকার এবং টাকা পয়সা অপরাধীর হাতে তুলে দেয়। নওগাঁ জেলা পুলিশ এই ধরনের অপরাধ দমনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *