সমালোচনার মুখে সিদ্ধান্ত বদলালেন থালাপতি বিজয়

ভারতের তামিলনাড়ুর বিধানসভায় আস্থা ভোটে জিতে নিজের সরকার সুরক্ষিত করার পরপরই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলেন মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয় ওরফে থালাপতি বিজয়। তার বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (রাজনৈতিক) হিসেবে জ্যোতিষী রাধান পণ্ডিত ভেট্রিভেলের নিয়োগ বাতিল করেছে ক্ষমতাসীন তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম (টিভিকে)।

জ্যোতিষী নিয়োগের এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর থেকেই বিরোধী ও মিত্র—উভয় পক্ষ থেকেই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন বিজয়। টিভিকের অন্যতম মিত্র দল ভিসিকে, যারা সরকারকে সমর্থন দিচ্ছে, তারা এই নিয়োগের কড়া সমালোচনা করে। ভিসিকের সাধারণ সম্পাদক ডি রবিকুমার একে একটি ধর্মনিরপেক্ষ সরকারের জন্য ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেন। একই সঙ্গে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি লালন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আরেক মিত্র দল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য শশীকান্ত সেন্থিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে বিস্ময় প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলেন, একজন জ্যোতিষীর কেন ওএসডি পদের প্রয়োজন? এছাড়া ডিএমডিকে প্রধান প্রেমলতা বিজায়াকান্ত বিধানসভায় এই নিয়োগের তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে যুবসমাজের জন্য ভুল বার্তা বলে মন্তব্য করেন।

আস্থা ভোটের পর টিভিকে নেতা সিটি নির্মল কুমার দাবি করেছিলেন, ভেট্রিভেল মূলত মিডিয়া মুখপাত্র হিসেবে কাজ করবেন। তার পেশা এখানে অপ্রাসঙ্গিক। শোনা যায়, এই জ্যোতিষী বিজয়ের জয়ের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। তার পরামর্শেই শপথ গ্রহণের সময় পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে সব মহলের ব্যাপক চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত এই নিয়োগ থেকে সরে আসতে বাধ্য হলো বিজয় সরকার।

মিত্ররা অসন্তুষ্ট হলেও, বিজেপির পক্ষ থেকে এই ইস্যুতে বিজয়ের প্রতি এক ধরণের প্রচ্ছন্ন সমর্থন লক্ষ্য করা গেছে। যদিও বিজয় স্পষ্টভাবে বিজেপিকে তার ‘আদর্শিক শত্রু’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন।

উল্লেখ্য, তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে জ্যোতিষীদের প্রভাব নতুন কিছু নয়। বিতর্কিত এই জ্যোতিষী রাধান পণ্ডিত ভেট্রিভেলের হাই-প্রোফাইল ক্লায়েন্ট তালিকায় সাবেক মুখ্যমন্ত্রী জে জয়ললিতাও ছিলেন বলে জানা গেছে। তবে বর্তমান আধুনিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই নিয়োগ বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দেওয়ায় সরকার শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *