শান্তর কপালে চিন্তার ভাঁজ, অটলের ব্যাটে এগিয়ে যাচ্ছে আফগানিস্তান

উইকেটের খোঁজে বাংলাদেশ, প্রতিরোধ গড়ছেন আফগান ব্যাটাররা। আবুধাবি টেস্টের শেষ দিনে জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত উইকেট তুলে নেওয়া। তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন সেদিকউল্লাহ অটল ও ইকরাম আলী খিল। শেষ পর্যন্ত এই জুটি ভেঙে বাংলাদেশকে স্বস্তি এনে দিয়েছেন ইবাদত হোসেন। তার বাউন্সারে পুল করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন ইকরাম।

দ্বিতীয় ইনিংসে এটি বাংলাদেশের হয়ে ইবাদতের তৃতীয় উইকেট। দুর্দান্ত ক্যাচ নিয়ে আবারও দলের সাফল্যে অবদান রেখেছেন লিটন। এই দুজনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ভেঙেছে অটল ও ইকরামের ৬৬ রানের প্রতিরোধী জুটি। ৩৩ রান করে সাজঘরে ফিরেছেন ইকরাম। তবে অন্য প্রান্তে এখনো লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন অটল। আফগানিস্তানের সামনে এখনো বড় লক্ষ্য, আর বাংলাদেশের অপেক্ষা বাকি উইকেটগুলোর। এই রিপোর্ট লখা পর্যন্ত আফগানিস্তানের সংগ্রহ  ৭৯ ওভার খেলে ৪ উইকেট হারিয়ে ২০৩ রান। জয়ের জন্যে আরও প্রয়োজন ২৭৬ রান অটল আছেন ৬৬ রানে অপরাজিত।

আজ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে টেস্টের পঞ্চম ও শেষ দিনের খেলা চলছে। আগের দিন চতুর্থ দিনের খেলা শেষে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৫০ ওভার ব্যাট করে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৩২ রান সংগ্রহ করেছিল আফগানিস্তান। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ৩৪৬ রানের জবাবে ২৪০ রানে অলআউট হয়েছিল সফরকারীরা। এতে প্রথম ইনিংসে ১০৬ রানের লিড পায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ উইকেটে ৩৭২ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে টাইগাররা। ফলে আফগানিস্তানের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪৭৯ রান।

দিনের শুরুতে আফগানিস্তানের হয়ে প্রতিরোধ গড়ছিলেন সেদিকউল্লাহ অটল ও হাশমতউল্লাহ শহিদি। তবে চোটের কারণে বেশিক্ষণ ব্যাটিং চালিয়ে যেতে পারেননি শহিদি। মেহেদী হাসান মিরাজের করা ওভারের চতুর্থ বলে সিঙ্গেল নিতে গিয়ে ফিল্ডারের থ্রো পায়ের প্যাডে লাগলে অস্বস্তিতে পড়েন তিনি। ২০ রান করা এই ব্যাটারকে মাঠে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন ফিজিও। পরে ফিজিওর সহায়তায় রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন শহিদি। তাঁর জায়গায় ক্রিজে আসেন ইকরাম আলী খিল।

এক প্রান্ত আগলে রেখে ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে ফিফটি তুলে নেন অটল। ১৬৬ বল খেলে অর্ধশতক পূর্ণ করেন এই আফগান ওপেনার। তাঁর সঙ্গে জুটি গড়ে ইকরামও বাংলাদেশের বোলারদের চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছিলেন। তবে ইবাদতের বাউন্সারে পুল করতে গিয়ে লিটনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ইকরাম ফিরে যাওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে বাংলাদেশ শিবিরে।

বাংলাদেশের হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন ইবাদত। তার বোলিংয়ে উইকেটের পেছনে লিটনের নির্ভরযোগ্য গ্লাভস আবারও কাজে এসেছে। এই জুটির সাফল্যে আফগানিস্তানের প্রতিরোধে ছেদ পড়েছে। এখন বাংলাদেশের লক্ষ্য দ্রুত বাকি উইকেটগুলো তুলে নিয়ে জয় নিশ্চিত করা।

এর আগে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের বোলাররা আফগানিস্তানকে ২৪০ রানে গুটিয়ে দিয়ে ১০৬ রানের লিড এনে দিয়েছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে লিটন দাসের সেঞ্চুরিতে ৩৭২ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। ফলে জয়ের জন্য আফগানিস্তানের সামনে দাঁড়ায় ৪৭৯ রানের কঠিন লক্ষ্য।

শেষ দিনের লড়াইয়ে বাংলাদেশের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের দ্রুত সাজঘরে ফেরানো। অন্যদিকে আফগানিস্তানের লক্ষ্য উইকেট আগলে রেখে ম্যাচে টিকে থাকা। ইকরামের বিদায়ে বাংলাদেশের বোলাররা কিছুটা স্বস্তি পেলেও অটলকে থামানো এবং বাকি উইকেটগুলো তুলে নেওয়াই এখন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর দলের মূল কাজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *