রোনালদোর মতো বিলিয়নিয়ার ক্লাবে মেসি

মাঠের লড়াইয়ে দীর্ঘ দেড় দশক ধরে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সাথে ফুটবলীয় শ্রেষ্ঠত্বের দ্বৈরথ চলেছে লিওনেল মেসির। এবার মাঠের বাইরেও পর্তুগিজ মহাতারকার গড়া রেকর্ডে ভাগ বসালেন আর্জেন্টাইন ফুটবল জাদুকর। ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ার্স ইনডেক্সের সর্বশেষ আর্থিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইন্টার মায়ামির এই ফুটবলারের মোট সম্পদ এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি।

ব্লুমবার্গের এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০০৭ সাল থেকে কেবল মাঠের বেতন এবং বোনাস বাবদই ৩৮ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি আয় করেছেন ৭০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি। পরবর্তীতে কর সমন্বয়, বৈশ্বিক বাজারের পারফরম্যান্স, বিভিন্ন লাভজনক ব্র্যান্ডের স্পনসরশিপ এবং সফল বাণিজ্যিক বিনিয়োগের হিসাব মিলিয়ে তার বর্তমান নিট সম্পদ এক বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে।

এর আগে ২০২৩ সালে সৌদি আরবের ক্লাব আল-নাসরে যোগ দেওয়ার পর ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো প্রথম ফুটবলার হিসেবে এই বিলিয়নিয়ার ক্লাবে ঢুকেছিলেন। মেসি হলেন দ্বিতীয় ফুটবলার।

এদিকে ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের পর লিওনেল মেসিকে বছরে ৪০০ মিলিয়ন ডলারের (প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা) অবিশ্বাস্য প্রস্তাব দিয়েছিল সৌদির প্রো লিগ। কিন্তু মেসি সেই টাকার পাহাড়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে যোগ দেন যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারের ক্লাব ইন্টার মায়ামিতে।

ইন্টার মায়ামির মালিক হোর্হে মাস জানিয়েছেন, ক্লাব থেকে মেসির বার্ষিক বেতন ৭০ থেকে ৮০ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে হলেও তার চুক্তিতে অ্যাপল টিভির রেভিনিউ-শেয়ারিং (লভ্যাংশ অংশীদারিত্ব) এবং ক্লাবের ইকুইটি বা মালিকানার লোভনীয় অপশন যুক্ত রয়েছে। মেসির উপস্থিতিতে ইন্টার মায়ামির বর্তমান ব্র্যান্ড ভ্যালু আকাশচুম্বী হয়ে ১.৪৫ বিলিয়ন ডলারে ঠেকেছে, যা বর্তমানে আমেরিকার সবচেয়ে মূল্যবান এবং বিশ্বের ১৬তম দামী ফুটবল ক্লাব নিউক্যাসল ইউনাইটেড থেকেও এগিয়ে।

মেসির এই বিশাল সাম্রাজ্য কেবল মাঠের চুক্তির ওপর নির্ভরশীল নয়। তার পরিবার ইউরোপ ও আমেরিকায় রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় বিশাল বিনিয়োগ করেছে। ২০২৪ সালের শেষের দিকে স্প্যানিশ শেয়ার বাজারে মেসির একটি রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টমেন্ট ট্রাস্ট তালিকাভুক্ত হয়, যার মূল্য ছিল ২৩২ মিলিয়ন ডলার। এর অধীনে রয়েছে একাধিক বিলাসবহুল হোটেল ও বাণিজ্যিক ভবন। এছাড়াও খাদ্য ও পানীয় শিল্পে স্পোর্টস ড্রিংকস এবং আর্জেন্টিনার বিখ্যাত রেস্তোরাঁ চেইন ‘এল ক্লাব দে লা মিলানেসা’-তে তার বড় বিনিয়োগ রয়েছে।

এমনকি অবসরের পরবর্তী সময়ের জন্য ফুটবল ক্লাব কেনার ব্যবসাতেও নেমে পড়েছেন মেসি। স্পেনের পঞ্চম বিভাগের ক্লাব ‘কর্নেলা’ এবং উরুগুয়ের ক্লাব ‘ডেপোর্টিভো এলএসএম’-এ (লুইস সুয়ারেজের সাথে যৌথভাবে) তার অংশীদারত্ব রয়েছে।

এসএন/পিডিকে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *