জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদের দফা ৩ অনুযায়ী মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র আজ শুক্রবার (২৪ জুলাই ২০২৬) বিকেল ৫টা ১ মিনিটে আমার নিকট দাখিল করেছেন। তার পদত্যাগপত্র আমি গ্রহণ করেছি। ফলশ্রুতিতে সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের রেকর্ডের সংরক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম গ্রহণের জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
আজ শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জাতীয় সংসদে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ আরও বলেন, লিখিতভাবে তিনি (মো. সাহাবুদ্দিন) জানিয়েছেন, গুরুতর অসুস্থ, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছেন। তার হৃদযন্ত্রের বাইপাস সার্জারি হয়েছে। ইদানিং স্বাস্থ্য পরীক্ষা অটোনমিক নিউরোপ্যাথি নামে রোগ শনাক্ত হয়েছে। এ রোগের কারণে তিনি মাঝেমধ্যে অচেতন হয়ে পড়েন। এসব রোগের প্রাদুর্ভাব এবং শারীরিক ও মানসিক অসমর্থ হওয়ার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। তার দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন। তাই তিনি স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগ করেছেন এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে এ পদত্যাগপত্র আমি গ্রহণ করেছি।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধান অনুযায়ী, যেদিন আমি স্পিকার হিসেবে শপথ নিয়েছি, সেদিনই ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছি, যদি প্রয়োজন হয়…। একইভাবে আমাদের ডেপুটি স্পিকারও যখন ডেপুটি স্পিকারের শপথ নেন এতে বর্ণিত থাকে, যখন বলা হবে কোনো কারণে যখন স্পিকারের চেয়ার শূন্য থাকবে তখন ডেপুটি স্পিকার স্পিকার পদের দায়িত্ব পালন করবে।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ আরও বলেন, সুতরাং আজ বাংলাদেশের নানা ধরনের কথাবার্তা আমি দুপুরে এসেই শুনছি। দেখা গেল, তিনি (মো. সাহাবুদ্দিন) প্রকৃত শারীরিক অসমর্থের কারণে পদত্যাগ করেছেন। আমি তার মঙ্গল ও সুস্বাস্থ্য কামনা করি। আমার মনে হয়, তিনি মাফিয়া সরকারের আমলে নির্বাচিত হলেও বর্তমানে জনগণের ভোটে যে সরকার নির্বাচিত হয়েছে, তার প্রতি তিনি সমর্থন এবং শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন সবসময়। আমি তার মঙ্গল কামনা করি। আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ।