রাশিয়ায় কেন নামলো রহস্যময় মার্কিন সামরিক উড়োজাহাজ

ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও মস্কোর মধ্যে যখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে, ঠিক তখনই মস্কোর ভনুকোভো বিমানবন্দরে মার্কিন সামরিক বিমান অবতরণের ঘটনা ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা-কল্পনা। ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার ও বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রহস্যময় এই বিমানটি মার্কিন বিমানবাহিনীর ব্যবহৃত দূরপাল্লার রসদ পরিবহনকারী বোয়িং সি-১৭ গ্লোবমাস্টার ৩ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, আরসিএইচ৪৫৫৫ কলসাইন এবং ০৭-৭১৮১ রেজিস্ট্রেশন নম্বরের এই মার্কিন বিমানটি মঙ্গলবার সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে লাটভিয়ার রাজধানী রিগা থেকে উড্ডয়ন করে সকাল ১০টার কিছু পরেই মস্কোতে অবতরণ করে। তবে অত্যন্ত বিরল ও অস্বাভাবিক এই ফ্লাইটের আসল উদ্দেশ্য কী, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি।

এই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র বা রাশিয়া কোনও পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে বিবৃতি দেয়নি। বিমানটিতে কে বা কী রয়েছে, সে বিষয়ে ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে যে তাদের কাছে কোনও তথ্য নেই।

রাশিয়ায় কেন নামলো রহস্যময় মার্কিন সামরিক উড়োজাহাজ

কেন মস্কোতে নামলো মার্কিন সামরিক বিমান?

বিমানের ফ্লাইট ইতিহাস থেকে জানা যায়, এটি ২৩ আগস্ট রিগায় পৌঁছায়। এর আগে বিমানটি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাম্প স্প্রিংস থেকে যাত্রা শুরু করেছিল, যা প্রেসিডেন্টকে বহনকারী এয়ার ফোর্স ওয়ান-এর প্রধান ঘাঁটি মার্কিন অ্যান্ড্রুজ এয়ার ফোর্স বেস হিসেবে পরিচিত। জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তাদের আকাশপথে পরিবহনের জন্য এই অ্যান্ড্রুজ ঘাঁটিটি আমেরিকার মূল কেন্দ্র।

ভারী সামরিক পরিবহন বিমানটির এভাবে আচমকা রাশিয়ায় পৌঁছানোর ঘটনাটি ইন্টারনেটে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে এই বিমান অবতরণের অর্থ এটি নয় যে এতে কোনও জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। সাধারণত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সফরের আগে কর্মী, গাড়ি, যোগাযোগ সরঞ্জাম এবং অন্যান্য লজিস্টিক সহায়তা পাঠানোর জন্যও এই ধরনের বিমান ব্যবহার করা হয়।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে জল্পনা চলছে যে, ইউক্রেন সংঘাত নিরসনে থমকে যাওয়া কূটনীতিতে গতি আনতে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ মস্কো সফর করতে পারেন। মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্প তার মনোযোগ ইরান যুদ্ধের দিকে ঘুরিয়ে নেওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ে। তবে গত সপ্তাহে খবর ছড়ায় যে,  মার্কিন ও ইউরোপীয় কর্মকর্তারা মস্কোর জন্য একটি নতুন প্রস্তাব তৈরি করেছেন।

অন্যদিকে ওয়ার অ্যান্ড মিলিটারি নিউজ নামের অপর একটি প্ল্যাটফর্ম ইঙ্গিত দিয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আলোচনার জন্য মার্কিন বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার এবং স্টিভ উইটকফের প্রত্যাশিত মস্কো সফরের সঙ্গে এই গ্লোবমাস্টারের আগমন সম্পর্কিত হতে পারে।

এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে সর্বশেষ সরাসরি মার্কিন ফ্লাইট রাশিয়ায় গিয়েছিল, যখন ট্রাম্পের জামাতা কুশনার ও উইটকফ ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে শান্তি আলোচনার জন্য মস্কো সফর করেছিলেন। তবে সেই বৈঠকে যুদ্ধ শেষ করতে ইউক্রেনকে পূর্ব ডনবাস অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে, পুতিনের এমন দাবির মুখে কোনও সমঝোতা হয়নি।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

এসএন/পিডিকে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *