রাজধানীতে ৭৩ টন পণ্যবোঝাই ১০ ট্রাক জব্দ

বন্ড সুবিধায় শুল্কমুক্তভাবে আমদানি করা পণ্যবোঝাই ১০ ট্রাক খুলনায় না গিয়ে রাজধানীর নয়াবাজারে প্রবেশ করে। পরে নয়াবাজার আড়তে বিক্রির আগেই জব্দ করে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। জব্দ করা ট্রাকগুলোতে ৭৩ মেট্রিক টন পণ্য রয়েছে।

আজ শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এনবিআর জানায়, প্রাপ্ত সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল শুক্রবার দিনগত রাতে পরিচালিত অভিযানে বন্ড সুবিধায় শুল্কমুক্তভাবে আমদানি করা ৭৩ মেট্রিক টন ডুপ্লেক্স বোর্ডবোঝাই ৯টি ও অশনাক্তকৃত পণ্যের একটিসহ মোট ১০টি ট্রাক পুরান ঢাকার নয়াবাজার এলাকা থেকে জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। পণ্যগুলোর নির্ধারিত গন্তব্য ছিল খুলনার একটি বন্ডেড প্রতিষ্ঠান। তবে ট্রাকগুলো খুলনায় না গিয়ে নির্ধারিত পথ পরিবর্তন করে পুরানা ঢাকার নয়াবাজার এলাকায় প্রবেশ করে। পরে পণ্যগুলো স্থানীয় আড়তে খালাসসহ বিক্রির প্রস্তুতি চলছিল।

এতে আরও বলা হয়, এ বিষয়ে পূর্বেই অবহিত হয়ে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক-১ এর নেতৃত্বে একটি দল বিভিন্ন ভাগে পৃথক পৃথক স্থানে অবস্থান নেয়। এ সময় র‌্যাব ১০ এবং পুলিশের লালবাগ বিভাগ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অংশ নেয়। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা সহযোগিতা করেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অভিযানকালে নয়াবাজারমুখী ১০টি ট্রাকের বহর কাস্টমস গোয়েন্দার উপস্থিতি টের পায়। এ সময় বহরের একটি ট্রাক দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। অন্যদিকে নয়াবাজারে আগে থেকেই অবস্থানরত এবং পণ্য বিক্রির প্রস্তুতিতে থাকা আরও একটি ট্রাক শনাক্ত ও জব্দ করা হয়। ফলে অভিযানস্থলে মোট ১০টি পণ্যবোঝাই ট্রাক কাস্টমস গোয়েন্দার নিয়ন্ত্রণে নেওয়া সম্ভব হয়। পালিয়ে যাওয়া ট্রাকটি শনাক্ত ও জব্দ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

সিআইআইডি জানায়, প্রাপ্ত আমদানি ও পরিবহণ নথি অনুযায়ী, ভারতের মেহালি পেপারস প্রাইভেট লিমিটেড থেকে খুলনার এসআরআই ফ্লেক্সোপ্যাক লিমিটেডের নামে পণ্যগুলো আমদানি করা হয়। সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট হলো এম এ আজাদ অ্যান্ড কোং লিমিটেড এবং পরিবহণকারী প্রতিষ্ঠান ডেলটা ট্রান্সপোর্ট সার্ভিস। নির্ধারিত রুট থেকে বিচ্যুতি এবং প্রাপ্ত সংবাদের সত্যতা চট্টগ্রাম থেকে খুলনাগামী পণ্যবাহী যানবাহনের প্রচলিত বাইপাস রুট কাঁচপুর–সাইনবোর্ড–পোস্তগোলা–মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে–পদ্মা সেতু→খুলনা।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পোস্তগোলা থেকে মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের সংযোগপথ ঢাকার মূল শহর এড়িয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দিকে চলে গেছে। অন্যদিক ঢাকার নয়াবাজার, রায়সাহেব বাজার ও তাঁতীবাজার খুলনাগামী স্বাভাবিক পরিবহণপথের বাইরে এবং বিপরীত দিকে অবস্থিত ঘনবসতিপূর্ণ পাইকারি বাণিজ্যিক এলাকা। ফলে খুলনাগামী বন্ডেড পণ্যবোঝাই ট্রাকগুলোর নির্ধারিত বাইপাস রুট ছেড়ে নয়াবাজার এলাকায় প্রবেশের ফলে গোপন সংবাদের প্রাথমিক সত্যতা প্রমাণিত হয়। যে আড়তে বন্ডেড কাগজগুলো বিক্রির অপচেষ্টা চলছিল তার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তের স্বার্থে উক্ত প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির নাম এখন প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না।

এতে বলা হয়,বন্ড সুবিধার আওতায় শুল্কমুক্তভাবে আমদানি করা কাঁচামাল সংশ্লিষ্ট বন্ডেড প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত কারখানা বা গুদামে নিয়ে উৎপাদন কাজে ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের পণ্য—অন্য কোনো গুদাম বা আড়তে স্থানান্তর; খোলাবাজারে খালাস; বিক্রি বা হস্তান্তর বা অনুমোদিত উৎপাদন কার্যক্রমের বাইরে ব্যবহার করা হলে তা বন্ড সুবিধার শর্ত লঙ্ঘন এবং সম্ভাব্য শুল্ক-কর ফাঁকির ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর দায় চূড়ান্ত তদন্ত, নথি যাচাইসহ বক্তব্য গ্রহণের পর নির্ধারিত হবে।

সিআইআইডি জানায়, তদন্তাধীন বিষয় জব্দ ট্রাক ও পণ্যের বিষয়গুলো যাচাই চলছে। এগুলো হলো—প্রতিটি ট্রাকের নিবন্ধন ও মালিকানার তথ্য; ট্রাকপ্রতি পণ্যের পরিমাণ ও প্যাকেজ সংখ্যা; কনটেইনার ও পরিবহণ সিলের অখণ্ডতা; বিল অব এন্ট্রি, ইনভয়েস, প্যাকিং লিস্ট ও পরিবহণ চালান; বন্ড লাইসেন্স ও সংশ্লিষ্ট ইউটিলাইজেশন পারমিশন; চট্টগ্রাম থেকে ছাড়ার সময় এবং ঢাকায় পৌঁছানোর সময়; নয়াবাজারের কোন আড়ত বা ব্যবসায়ীর কাছে পণ্যগুলো সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল; আমদানিকারক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, পরিবহণকারী ও সম্ভাব্য ক্রেতাদের ভূমিকা; পালিয়ে যাওয়া ট্রাকটির অবস্থান ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয়; এর আগে একই পদ্ধতিতে বন্ডেড পণ্য খোলাবাজারে বিক্রি করা হয়েছে কি না; সরকারি রাজস্ব ঝুঁকি ও সম্ভাব্য শুল্ক-কর ফাঁকির পরিমাণ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জব্দ পণ্য ও ট্রাকগুলোর পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত, পরিমাণ নিরূপণ এবং সংশ্লিষ্ট নথি যাচাইয়ের কাজ চলমান রয়েছে। তদন্তে বন্ড সুবিধার অপব্যবহার, গন্তব্য পরিবর্তন, অবৈধভাবে পণ্য খালাস বা খোলাবাজারে বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রচলিত কাস্টমস ও বন্ডসংক্রান্ত আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে পালিয়ে যাওয়া ট্রাকটি শনাক্ত, পণ্যের সম্ভাব্য ক্রেতা বা আড়তদারদের চিহ্নিত এবং এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত পুরো চক্র উদ্ঘাটনে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *