চলমান যুদ্ধ বন্ধে একটি স্বল্পমেয়াদি ও সীমিত চুক্তির দিকে এগোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। উভয় পক্ষ একটি খসড়া কাঠামো নিয়ে আলোচনা করছে, যার মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধ করা হলেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিরোধপূর্ণ বিষয় আপাতত অমীমাংসিত থাকবে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য এই সমঝোতা পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তি নয়, বরং এটি একটি অস্থায়ী সমঝোতা স্মারক বা মেমোরেন্ডাম হতে পারে। এর লক্ষ্য হলো যুদ্ধের পুনরাবৃত্তি ঠেকানো এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা।
বিভিন্ন সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত এবং কতদিন তেহরান পারমাণবিক কার্যক্রম স্থগিত রাখবে, এসব প্রশ্নে দুই পক্ষ একমত হতে পারেনি এ কারণে আপাতত যুদ্ধ বন্ধ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফেরানোকে অগ্রাধিকার দিয়ে সীমিত সমঝোতার পথে হাঁটছে ওয়াশিংটন ও তেহরান।
মধ্যস্থতায় যুক্ত এক জ্যেষ্ঠ পাকিস্তানি কর্মকর্তা বলেন, আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের ঘোষণা নিশ্চিত করা। এরপর সরাসরি আলোচনায় বাকি বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
প্রস্তাবিত কাঠামোটি তিন ধাপে বাস্তবায়নের কথা ভাবা হচ্ছে। প্রথম ধাপে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা, দ্বিতীয় ধাপে হরমুজ প্রণালির সংকট সমাধান এবং তৃতীয় ধাপে একটি বৃহত্তর চুক্তির জন্য ৩০ দিনের আলোচনা শুরু করা হতে পারে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, একটি এক পাতার সমঝোতা স্মারক প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তবে এখনো কয়েকটি বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার (৬ মে) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের বলেন, তারা চুক্তি করতে চায়, এটি খুবই সম্ভব। পরে তিনি আরও বলেন, সবকিছু খুব দ্রুত শেষ হয়ে যেতে পারে।
তবে ইরান এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, তেহরান যথাসময়ে প্রস্তাবটির জবাব দেবে। অন্যদিকে ইরানি আইনপ্রণেতা ইব্রাহিম রেজায়ি এই প্রস্তাবকে বাস্তবতার চেয়ে বেশি আমেরিকান ইচ্ছাপত্র বলে মন্তব্য করেছেন।
এসএন/পিডিকে