ভারতের তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরই একাধিক জনমুখী সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর (থালাপতি বিজয়)। বিনামূল্যে বিদ্যুৎ, মাদকবিরোধী বিশেষ টাস্কফোর্স এবং নারীদের নিরাপত্তায় বিশেষ বাহিনী গঠন ছিল তার প্রথম নির্দেশনার মধ্যে অন্যতম।
আজ রোববার (১০ মে) শপথ নেওয়ার পর আবেগঘন বক্তব্যে বিজয় তার পরিচিত তামিল বাক্য ‘এন নেঞ্জিল কুডিইরুক্কুম’ দিয়ে ভাষণ শুরু করেন, যার অর্থ ‘যারা আমার হৃদয়ে বাস করেন’।
নিজের প্রথম সরকারি আদেশে তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম (টিভিকে)-প্রধান বিজয় ঘোষণা দেন, রাজ্যের মানুষকে ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দেওয়া হবে। পাশাপাশি মাদকের বিস্তার রোধে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন এবং নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ বাহিনী ও হেল্পলাইন চালুর নির্দেশ দেন তিনি।
বিজয় বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পানিসহ মৌলিক খাতগুলোতে তার সরকার বিশেষ গুরুত্ব দেবে। কৃষক ও জেলেদের স্বার্থও রক্ষা করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
বক্তব্যে নিজের সংগ্রামী জীবনের কথাও তুলে ধরেন বিজয়। তিনি বলেন, একজন সহকারী পরিচালকের ছেলে আজ মুখ্যমন্ত্রী হয়েছে। আমি দারিদ্র্য ও ক্ষুধা কী, তা জানি। আমি কোনো রাজপরিবার থেকে আসিনি। অনেক কষ্ট ও অপমান সহ্য করেছি। আমি আপনাদের ছেলে, ভাই ও ছোট ভাইয়ের মতো।
বিজয় আরও বলেন, আমি মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেবো না। ডিএমকে রাজ্যের কোষাগার খালি করে গেছে। আমরা প্রায় ১০ লাখ কোটি রুপি ঋণের বোঝা নিয়ে সরকার গঠন করেছি। জনগণের অর্থ থেকে একটি টাকাও অপচয় হতে দেবো না এবং কাউকে লুটপাট করতে দেবো না।
‘ধর্মনিরপেক্ষ ও প্রকৃত সামাজিক ন্যায়ের নতুন যুগ’ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিজয় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, প্রবীণ চক্রবর্তী, বাম নেতা এম. এ. বেবি এবং জোটসঙ্গীদের ধন্যবাদ জানান।
২৩৪ সদস্যের তামিলনাড়ু বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ছিল ১১৮ আসন। নির্বাচনে টিভিকে একক বৃহত্তম দল হলেও এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। পরে কংগ্রেস, ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিআই), ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) (সিপিআই-এম), বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচি (ভিসিকে) এবং ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগ (আইইউএমএল)-এর সমর্থনে জোটের আসনসংখ্যা দাঁড়ায় ১২০-এ।
এর মাধ্যমে প্রায় ৬০ বছর পর তামিলনাড়ুতে দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাজগম (ডিএমকে) ও অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাজগম (এআইডিএমকে)-এর বাইরে অন্য কোনো দল সরকার গঠন করল।
এদিকে ডিএমকে মুখপাত্র এ সারাভানান দাবি করেছেন, সাংবিধানিক সংকট এড়াতে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এম. কে. স্ট্যালিন জোটসঙ্গীদের টিভিকের পাশে দাঁড়াতে উৎসাহিত করেছিলেন।
বিজয়ের সঙ্গে আরও নয়জন মন্ত্রী শপথ নিয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন কৌশলবিদ আধব অর্জুন, সাবেক বিজেপি নেতা সিটিআর নির্মল কুমার, টিভিকের সাধারণ সম্পাদক বুসি আনন্দ এবং ২৮ বছর বয়সী এস কীর্তনা, যিনি মন্ত্রিসভার সবচেয়ে তরুণ সদস্য।
এখন বিজয় সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বিধানসভায় আস্থা ভোটে জয় পাওয়া। আগামী ১৩ মে’র মধ্যে তাকে ফ্লোর টেস্টে অংশ নিতে হবে।