মিশরের পক্ষ নিলেন মামদানী-‘সত্যিই ডাকাতি করা হয়েছে!’

ফিফা বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মিশরের নাটকীয় হার শুধু ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যেই আলোচনার জন্ম দেয়নি, এর রেশ ছড়িয়ে পড়েছে রাজনৈতিক অঙ্গনেও! রেফারিং নিয়ে চলমান বিতর্কে এবার মন্তব্য করেছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানী। জনপরিবহন উন্নয়ন নিয়ে আয়োজিত এক সরকারি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে হঠাৎই টেনে আনেন বিশ্বকাপের বহুল আলোচিত মিশর-আর্জেন্টিনা ম্যাচের প্রসঙ্গ। সেখানেই তিনি দাবি করেন, ম্যাচটিতে মিশর পক্ষপাতিত্বের শিকার হয়েছে!

বুধবার নিজের নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দাদের উদ্দেশে ‘নেক্সট স্টপ: বেটার বাসেস, ফাস্টার সার্ভিস’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন মামদানী। নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে নিউইয়র্কের বাসসেবা আরও দ্রুত ও কার্যকর করার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি। বক্তব্যের শুরুতেই নাগরিকদের দৈনন্দিন যাতায়াতের সময় কমে আসার সম্ভাব্য সুফলের কথা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘আপনারা যদি নিয়মিত বাসে যাতায়াত করেন, তবে এই নতুন ব্যবস্থার সুফল দ্রুতই টের পাবেন। আগামী ছয় মাসের মধ্যে বাসে আপনাদের যাতায়াতের সময় অন্তত ২৪ ঘণ্টা কমবে। আর এক বছর পূর্ণ হতে হতে আপনারা যাতায়াতের পুরো দুটি দিন বাঁচিয়ে ফেলতে পারবেন।’

এরপর সেই বাড়তি সময় মানুষের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে কীভাবে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, সেটি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘এই বেঁচে যাওয়া সময় মানে পরিবারের সাথে সকালের নাস্তা করা। এর মানে আপনার সন্তানের লিটল লিগ খেলায় আম্পায়ারের ভুলত্রুটি নিয়ে আড্ডা দেওয়ার সুযোগ পাওয়া। এর মানে সময়মতো বাড়ি ফিরে সন্তানদের ঘুমাতে যাওয়া।’

তবে সামাজিক কল্যাণ ও নগরসেবার আলোচনা একপর্যায়ে মোড় নেয় বিশ্বকাপের সবচেয়ে আলোচিত বিতর্কের দিকে। উপস্থিতদের উদ্দেশে মামদানী বলেন, ‘এর মানে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় বসে এই বিষয়ে একমত হওয়া যে (মঙ্গলবার) মিশরের সঙ্গে সত্যিই ডাকাতি করা হয়েছে! সর্বোপরি, এর মানে হলো নিউইয়র্কবাসীর ব্যস্ত জীবন থেকে কিছুটা মূল্যবান সময় ফিরিয়ে দেওয়া।’

মামদানীর এই মন্তব্য দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। কারণ, মিশরের বিদায়ের পর থেকেই ম্যাচটির রেফারিং নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে চলছে ব্যাপক আলোচনা।

শেষ ষোলোর সেই ম্যাচে ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ০-২ গোলে এগিয়ে ছিল মিশর। কিন্তু শেষ ১২ মিনিটে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন করে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় আর্জেন্টিনা। যদিও ম্যাচের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন তুলেছেন মিশরের ফুটবলার, কোচ এবং সমর্থকেরা।

বিতর্কের সূচনা হয় ৫৮ মিনিটে। সে সময় মোস্তফা জিকোর করা একটি গোল ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) প্রযুক্তির সহায়তায় বাতিল করা হয়। রিপ্লেতে দেখা যায়, গোলের আগে আক্রমণ গড়ে ওঠার সময় মিশরের এক খেলোয়াড় ফাউল করেছিলেন-এই যুক্তিতেই গোলটি বাতিল করেন ম্যাচ কর্মকর্তারা।

এরপর ম্যাচের শেষদিকে হামদি ফাথিকে ফাউল করা হয়েছে বলে জোরালোভাবে পেনাল্টির আবেদন জানায় মিশর। কিন্তু রেফারি খেলা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। সেই আক্রমণ থেকে বল ঘুরে যায় উল্টো প্রান্তে এবং যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে জয়সূচক গোল করে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে নিজের হতাশা লুকাননি মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। তিনি বলেন, ‘আমি দেশে ফিরে যাচ্ছি। এই টুর্নামেন্টের আর কোনো ম্যাচ দেখব না। আমাদের সঙ্গে যা হয়েছে, তা মোটেও ন্যায্য ছিল না। আমরা একটি পেনাল্টি পাওয়ার যোগ্য ছিলাম। আমাদের একটি গোলও বাতিল করা হয়েছে। কেন সেটি বাতিল হলো, আমি বুঝতে পারছি না।’

মাঠ ছাড়ার সময় আরও কঠোর ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানান মিশরের স্ট্রাইকার মোস্তফা জিকো। তিনি বলেন, ‘রেফারি মোটেও ভালো ছিলেন না, তিনি অন্যায় করেছেন। তার পক্ষপাতিত্ব স্পষ্ট ছিল। ম্যাচের শুরু থেকেই তিনি আমাদের ওপর চড়াও হয়েছিলেন। তিনি চাননি আমরা জিতি। এই ম্যাচটি আগে থেকেই সাজানো ছিল।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *