মিরপুরে রৌদ্রজ্জ্বল আকাশেই তৃতীয় দিন সকালে খেলা শুরু করেছিল বাংলাদেশ আর পাকিস্তান। তবে দুপুর নামতেই রঙ বদলালো আকাশ। মিরপুরের আকাশ ঢেকে গেল কালো মেঘে। শুরু হলো গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিও। তাই বাধ্য নির্ধারিত সময়ের আগেই চা-বিরতির ঘোষণা দিলেন ম্যাচ রেফারি। আপাতত কাভার ঢাকা রয়েছে।
আজ রোববার (১০ মে) মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তৃতীয় দিনের চা বিরতির আগ পর্যন্ত ৬ উইকেট হারিয়ে ৩৪৯ রান তুলেছে পাকিস্তান। প্রথম ইনিংসে এখনো তারা পিছিয়ে ৬৪ রানে।
তৃতীয় দিনের সকালটা রাঙিয়ে মধ্যাহ্ন বিরতিতে গিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু বিরতি থেকে ফিরে আবার ছন্দ হারায় টাইগাররা। লম্বা সময় ধরে বাংলাদেশের বোলারদের আক্ষেপ বাড়িয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন সালমান আলী আঘা আর মোহাম্মদ রিজওয়ান। সেই ছুটিতে ছেদ টানলেন তাইজুল ইসলাম।
ষষ্ঠ উইকেটে শতক ছাড়ানো জুটি গড়েছিলেন এই সালমান-রিজওয়ান। দুজনই তুলে নিয়েছিলেন হাফসেঞ্চুরি। অবশেষে সেই জুটি ভাঙলেন তাইজুল। ৭৯ বলে ৫৯ রান করে বড় শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন রিজওয়ান।
তৃতীয় দিনের সকাল রাঙিয়ে মধ্যাহ্ন বিরতিতে বাংলাদেশ
আগের দিনের বাজে বোলিং আর ক্যাচ ফেলার হতাশা ঝেড়ে ফেলে তৃতীয় দিন সকালে ঘুরে দাঁড়াল বাংলাদেশ। মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ানো দুই ব্যাটারসহ ফেরাল আরও দুজনকে। সবমিলিয়ে দারুণ একটি সেশন পার করে মধ্যাহ্ন বিরতিতে গেল বাংলাদেশ।
তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনে খেলা হয়েছে মোট ২৫ ওভার। এই সময়ে পাকিস্তান তুলেছে ৭২ রান। আর বাংলাদেশ শিকার করেছে ৪ উইকেট। এর মধ্যে আগের দিনের দুই থিতু হওয়া ব্যাটার আজান আওয়াইস আর আব্দুল্লাহ ফজলও আছেন।
দ্রুত উইকেট তুলে নিয়ে লাগাম টানল বাংলাদেশ
তৃতীয় দিনে একপ্রান্ত থেকে উইকেট তুলে নিচ্ছিল বাংলাদেশ। অন্যপ্রান্ত আগলে রেখেছিলেন গতকাল তিন নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামা আব্দুল্লাহ ফজল। অভিষেক ম্যাচে হাফসেঞ্চুরি তুলে নিয়েছিলেন তিনি। অবশেষে তাকেও ফেরাল বাংলাদেশ। আজ দ্রুত চার উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের লাগাম টেনে ধরছে বাংলাদেশ।
৩৭ রানে অপরাজিত থেকে তৃতীয় দিন মাঠে নেমেছিলেন আব্দুল্লাহ ফজল। সকালের দিকেই অভিষেক হাফসেঞ্চুরি তুলে নিয়েছিলেন তিনি। এরপর আর তাকে বেশি দূর যেতে দিলেন না মেহেদী হাসান মিরাজ। মিড অনের ওপর দিয়ে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ত্রিশ গজের ভেতরে তাইজুলের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন ফজল। ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে এসেছে ১২০ বলে ৬০ রান।
আবারও জোড়া আঘাত হানল বাংলাদেশ
আগের দিনের বাজে বোলিং আর ক্যাচ মিসের হতাশা ভুলতে আজ সকালে নতুন বলেই ভরসা ছিল বাংলাদেশের। শুরুর কয়েকটি ওভার বাংলাদেশের পক্ষে কথা বলল না। তবে, এখন আলো ছড়াচ্ছেন তাসকিন আহমেদ। তৃতীয় দিনে নিজের দ্বিতীয় শিকার ধরলেন তিনি। ফেরালেন পাকিস্তানের অধিনায়ক শান মাসুদকে। শিকার ধরেছেন মেহেদী হাসান মিরাজও।
আজান ফেরার পর উইকেটে এসেছিলেন শান মাসুদ। ব্যাটিংও মন্দ করছিলেন না। তবে বেশি সময় তাকে উইকেটে সময় কাটাতে দিলেন না তাসকিন। আগের দিন ক্যাচ ফেলে দিলেও আজ দারুণ ক্যাচ নিয়ে সেই ভুলের প্রাশ্চিত্য করলেন তিনি। শর্ট পয়েন্টে নিচু হয়ে আসা বল মুঠোয় নিয়েছেন দারুণভাবে। শান ফিরেছেন ১৭ বলে ৯ রান করে।
পরের ওভারেই আঘাত হানলেন স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ। নতুন ব্যাটার সৌদ শাকিলকে উইকেটে দাঁড়াতেই দেননি মিরাজ। ৪ বলে কোনো রান না করেই ফিরেছেন শাকিল।
অবশেষে বাংলাদেশকে উইকেট এনে দিলেন তাসকিন
অভিষেক টেস্টেই বাংলাদেশের বোলারদের সামনে কঠিন পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন পাকিস্তানের ওপেনার আজান আওয়াইস। দারুণ ব্যাটিংয়ে আগের দিনই সেঞ্চুরির আশা জাগিয়েছিলেন তিনি। আজ সকালে সেটি পূরণও করে নিয়েছিল। অবশেষে তাকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে উইকেট এনে দিলেন তাসিকন আহমেদ।
৮৫ রান নিয়ে তৃতীয় দিন শুরু করা আজান আজকের পঞ্চম ওভারেই সেঞ্চুরি তুলে নেন। নাহিদ রানার বলে সিঙ্গেল নিয়ে অভিষেক ম্যাচেই তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেন তিনি। একই সঙ্গে আব্দুল্লাহ ফজলকে নিয়ে দ্বিতীয় উইকেটে শতক ছাড়ানো জুটি গড়েন তিনি।
তৃতীয় দিনের অষ্টম ওভারে আজানকে ফেরান তাসকিন। টাইগার পেসারের বলে স্লিপে নাজমুল হাসান শান্তর হাতে ক্যাচ দিয়েছেন তিনি। এতে ভাঙে ১০৪ রানের জুটি।
আক্ষেপে দ্বিতীয় দিন শেষ হয়েছে বাংলাদেশের
প্রথম দিনটি দারুণ ব্যাটিংয়ে নিজেদের করে নিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু দ্বিতীয় দিনটি কেটেছে আক্ষেপে। ব্যাটিংয়ে সেঞ্চুরি করে জন্মদিন রাঙানোর সুযোগ ছিল মুশফিকুর রহিমের সামনে, পারেননি তিনি। এরপর ফিল্ডিংয়ে ক্যাচ ফেলে দিয়ে বাড়িয়েছে উইকেটের আক্ষেপ। বোলাররা ছিলেন গড়পরতা। বাংলাদেশের এমন আক্ষেপের ভিড়ে দ্বিতীয় দিনেই শক্ত ভীত দাঁড় করিয়ে নিয়েছিল পাকিস্তান।
দ্বিতীয় দিন শেষে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৪৬ ওভার ব্যাট করে এক উইকেট হারিয়ে ১৭৯ রান করেছিল পাকিস্তান। বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে ছিল ২৩৪ রানে।