ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখে ‘চোর-চোর’ স্লোগান দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তাকে উদ্দেশ্য করে কুমন্তব্য করারও অভিযোগ উঠেছে ক্ষমতাসীন দল বিজেপির বিরুদ্ধে। যদিও এগুলো কোনোটিই বিজেপির কাজ নয় এবং এগুলো বিজেপির সংস্কৃতিও নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি ও রাজ্যসভার সংসদ সদস্য শমীক ভট্টাচার্য।
আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) কলকাতা হাইকোর্ট চত্বরে এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে তিনি এমন মন্তব্য করেন। পাশাপাশি শমীক ভট্টাচার্যের দাবি, এই বিক্ষোভ তৃণমূলের কৃতকর্মের ফল। তবে এই রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে পশ্চিমবঙ্গকে বের করে নিয়ে যেতে চান তারা। খবর আনন্দবাজারের।
ভোট-পরবর্তী সহিংসতার অভিযোগে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি নিজে আইনজীবী হিসেবে জেরা করেছিলেন। প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের এজলাস থেকে বের হওয়ার সময় বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয় রাজ্যটির তিনবারের এ মুখ্যমন্ত্রীকে। উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মমতা আইনজীবীদের একাংশের দিকে আঙুল দেখিয়ে বলেন, ওরা আমাকে মেরেছে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছায় যে পুলিশ এবং নিরাপত্তারক্ষীরা ঘিরে মমতাকে বের করে নিয়ে যায়। যা নিয়ে তৃণমূল সংসদ সদস্য এবং আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, হাইকোর্টে আমাদের নিরাপত্তার হাল যদি এই হয়, তবে সারা রাজ্যে কী হচ্ছে!
তবে রাজ্য বিজেপির সভাপতি দাবি করেছেন, এই বিক্ষোভে বিজেপি কোনোভাবে জড়িত নয়। তার ভাষায়, এটা বিজেপির সংস্কৃতি নয়। উনি সাবেক মুখ্যমন্ত্রী। একজন নারী। তাকে দেখলে মানুষ রাস্তায় ‘চোর-চোর’ স্লোগান দেবে, এই কাজ বিজেপি করে না। এই পরিস্থিতিও বিজেপি তৈরি করেনি। এই পরিস্থিতির জন্য যদি কেউ দায়ী হয়ে থাকে, সেটা তৃণমূলই।
রাজ্য বিজেপির সভাপতি কটাক্ষ করে বলেন, ‘কৃতকর্মের ফল তো পিছু ছাড়ে না। তবে এ ধরনের ঘটনা যাতে না হয়… আমরা সুস্থ, স্বাভাবিক সমাজ চাই। যে কাজ তৃণমূল করেছে, তারই প্রতিক্রিয়া এগুলো।
মমতাকে ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে শমীক এও দাবি করেন, যারা বিক্ষোভ করছেন তারা তৃণমূলের। যাদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, তারাও তৃণমূলের। এখানে কোথাও বিজেপি নেই। তার ভাষায়, এটা ‘হ্যাভ্স’ আর ‘হ্যাভ নট্স’-দের লড়াই। তৃণমূলের সময় যারা পেয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে যারা পায়নি, তারা এখন মুখ খুলছে।
আইনজীবী মমতা হাইকোর্টে জানান, ভোট-পরবর্তী সহিংসতায় তার দলের প্রচুর কর্মী আক্রান্ত হচ্ছেন। তাদের প্রায় ১৬০টি দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। রাজ্যে প্রায় দুই হাজার ঘটনা ঘটেছে। প্রাক্তন পুলিশমন্ত্রী পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি নিজের এলাকার উদাহরণ দিয়ে জানিয়েছেন, নিজে পুলিশের কাছে গিয়ে অভিযোগ করতে পারছেন না। অনলাইনে অভিযোগ করতে হচ্ছে। ১২ বছরের নাবালিকাকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এসব ঘটনায় পুলিশ দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।
যদিও আদালতে পুলিশ-প্রশাসনের থেকে দাবি করা হয়েছে, মামলাকারীদের অভিযোগ স্পষ্ট নয়। তারা দুই হাজার ঘটনার কথা বলছেন। কিন্তু সেগুলো নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য নেই।
মমতার ভোট-পরবর্তী সহিংসতার অভিযোগ নিয়ে শমীকের প্রতিক্রিয়া, বিজেপিরও তিন কর্মী মারা গিয়েছেন। আমরা চাইলেই যে রাজনৈতিক হিংসা বন্ধ হয়ে যাবে, এমনটা নয়। মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। কোথাও কোনো বিচ্যুতি থাকলে সাংবাদিকদের জানাতে হবে। যে কোনো মূল্যে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন করতে হবে। না হলে ধ্বংস হবে পশ্চিমবঙ্গ। তিনি আরও বলেন, বিজেপি ক্ষমতায় আছে বলেই জীবিত আছেন। কিন্তু প্রয়োজনে আমাদের কর্মীরা জবাব দিতে পারেন। নইলে স্বতঃস্ফূর্ত জনরোষে শেষ হয়ে যেত। আসলে আমরা এই রাজনীতির শেষ দেখতে চাই।