দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ও ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে ৭.২ এবং ৭.৫ মাত্রার এই শক্তিশালী ভূমিকম্পে দেশটিতে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও ৯৭১ জন। ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এই হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। খবর আল জাজিরার।
স্থানীয় সময় বুধবার (২৪ জুন) সন্ধ্যায় আঘাত হানা ৭.২ এবং ৭.৫ মাত্রার এই জোড়া ভূমিকম্পটি গত ১০০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে ভেনেজুয়েলায় হওয়া অন্যতম শক্তিশালী ভূমিকম্প। এর তীব্রতা পুরো অঞ্চলজুড়ে অনুভূত হয়েছে।
দেশটির রাজধানী কারাকাসের বাসিন্দা ও ভূমিকম্প থেকে বেঁচে ফেরা মারিয়া আলেজান্দ্রা তাঁর ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানান। তিনি বলেন, ‘ভূমিকম্পের সময় আমি ভবনের ভেতরে ছিলাম। চোখের সামনে সব দেয়াল ফেটে যাচ্ছিল। কোনোমতে দরজা খুলে আমরা যখন নিচে নামি, চারপাশ ধুলোর মেঘে অন্ধকার হয়ে গিয়েছিল, কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। নিচের দৃশ্যটি ছিল ঠিক কোনো হরর সিনেমার মতো। আমাদের ভবনের ধ্বংসস্তূপ ডিঙিয়ে বের হতে হয়েছে। আমি কেবল একটি মাত্র পরিবারকে জীবিত বের হতে দেখেছি।’
ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে লা গুয়াইরা রাজ্য। অসংখ্য ভবন ধসে পড়ায় ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এই অঞ্চলটিকে ‘দুর্যোগ এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন।
দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা গেছে, লা গুয়াইরা রাজ্যের ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ধুলোবালি মাখা তিনটি শিশুকে জীবিত উদ্ধার করে আনছেন উদ্ধারকর্মীরা। উপদ্রুত এলাকাগুলোতে বর্তমানে জরুরি উদ্ধার অভিযান চলছে এবং নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।