ভূমিকম্পে নিখোঁজ আর্জেন্টাইন ফুটবলারের স্ত্রী-সন্তান

ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা শতাব্দীর ভয়াবহতম জোড়া ভূমিকম্পে ক্রীড়াঙ্গনে নেমে এসেছে চরম বিপর্যয়। উত্তর ভেনেজুয়েলার বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে ধ্বংসস্তূপের নিচে হাজার হাজার মানুষের আটকে থাকার আশঙ্কার মাঝেই এক মর্মস্পর্শী ঘটনার মুখোমুখি হয়েছেন দেশটির ঘরোয়া ফুটবলের পরিচিত মুখ, আর্জেন্টাইন ফুটবলার লুকাস ত্রেহো। প্রলয়ঙ্করী এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন তার স্ত্রী ও সন্তান। খবর মার্কা ডট কমের। 

ভেনেজুয়েলার ক্লাব ‘মারীতিমো লা গুয়াইরাতে’ খেলা এই আর্জেন্টাইন ফুটবলার তার পরিবারকে খুঁজে পেতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশ্ববাসীর কাছে আকুল আকুতি জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, দয়া করে আমাকে সাহায্য করুন। আমি আমার পরিবারের কোনো খোঁজ পাচ্ছি না—সবাই তাদের জন্য প্রার্থনা করুন। আমি বিশ্বাস করতে চাই যে তারা সেই সময় সেখানে ছিল না।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় রাজ্য লা গুয়াইরার অন্যতম বিলাসবহুল ‘এডুয়ার্ডস হোটেল’ মুহূর্তের মধ্যে ধসে মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। ভেনেজুয়েলার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘ডায়ামান্তে ২৩’ জানিয়েছে, ভয়াবহ এই ভূমিকম্পের সময় হোটেলটিতে দেশটির বেসবল লিগের দল ‘গেরেরোস দে লারা’ এবং ‘দেলফিনেত দে লা গুয়াইরার’ খেলোয়াড়, স্টাফ ও তাদের পরিবারের সদস্যরা অবস্থান করছিলেন। এছাড়া দেশটির সাবেক তারকা বেসবল খেলোয়াড় গোর্কিস হার্নান্দেজ ও এলিয়েজার আলফনজোর পরিবারের সদস্যরাও ওই হোটেলে ছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, সম্পূর্ণ ধসে পড়া হোটেলটির বাইরে খেলোয়াড়েরা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে জড়ো হয়ে আছেন। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া এই বিলাসবহুল হোটেলটি এখন অনেকের জন্যই মূলত এক মৃত্যুকূপে পরিণত হয়েছে। খেলোয়াড়েরা সেখানে চরম উৎকণ্ঠা নিয়ে তাদের প্রিয়জনদের সংবাদের জন্য অপেক্ষা করছেন, যাদের মধ্যে অনেকেই ইতোমধ্যে মারা গেছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে এই ধ্বংসযজ্ঞের মাঝেও হোটেলটিতে থাকা নামী বেসবল খেলোয়াড় জেনরি মেজিয়া অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরতে পেরেছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

গত বুধবার (২৪ জুন) রাতে মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে পর পর আঘাত হানা ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার জোড়া ভূমিকম্পের তীব্রতা এবং ভেনেজুয়েলার ভবনগুলোর প্রাচীন নির্মাণ কাঠামোর কারণে দেশজুড়ে নজিরবিহীন ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এখন পর্যন্ত ২৩৫ জন নিহত ও দেড় হাজারেরও বেশি আহতের খবর পাওয়া গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *