ভুল নকশায় এলজিইডির সেতু নির্মাণ, ৬ বছর ধরে ভোগান্তি

পটুয়াখালীর দশমিনা ও বাউফল উপজেলা সীমান্তে বাঁশবাড়িয়া বগী খালে ভুল নকশায় সেতু নির্মাণ হওয়ায় ছয় বছর ধরে ভোগান্তিতে এলাকাবাসী। প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। নকশা প্রণয়ন, বাজেট বরাদ্দ ও টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেতুর মূল অবকাঠামোর কাজ শেষ করে। সংযোগ সড়ক নির্মাণ করতে গিয়ে ধরা পড়ে নকশায় ভুল। তাই বন্ধ হয়ে যায় নির্মাণ কাজ।

দীর্ঘ ছয় বছর ধরে দাঁড়িয়ে রয়েছে সংযোগ সড়ক বিহীন ভোগান্তির এই সেতু। এতে ইটের ব্লকের সিঁড়ি বানিয়ে আতঙ্ক ও ঝুঁকি সেতুটি পারাপার হচ্ছে এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে এলজিইডি জানিয়েছে, নতুন নকশা প্রণয়ন করা হয়েছে। দরপত্র প্রক্রিয়া শেষে কাজ শুরু হবে।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯-২০ অর্থ বছরে দশমিনা ও বাউফল উপজেলার প্রায় ১১ গ্রামের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নতির জন্য এই সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয় এলজিইডি। ২৪ মিটার  দীর্ঘ ও ৭ মিটার প্রস্থের এই আরসিসি গার্ড সেতু নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় দুই কোটি ৮২ লাখ ১০ হাজার ৫০৬ টাকা। কাজটি পায় পটুয়াখালীর মের্সাস আবুল কালাম আজাদ এন্টারপ্রাইজ। চুক্তি অনুযায়ী ২০২০ সালের শেষ দিকে সেতু নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেতুর অবকাঠামোর কাজ শেষ করে। তবে সংযোগ সড়ক নির্মাণ কাজ শুরু করলে নকশায় ভুল ধরা পড়ে। এতে বন্ধ হয়ে যায় নির্মাণ কাজ। কাজ বন্ধের প্রায় ছয় বছর হলেও সংযোগ সড়কের কাজ শুরু করতে পারেনি এলজিইডি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এলজিইডির গাফিলতির কারণে ছয় বছর ধরে দুই উপজেলার ১১ গ্রামের হাজার হাজার মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। তারা (এলজিইডি) কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে বছরের পর বছর ধরে সেতুর কাজ ঝুলিয়ে রেখেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. আবদুল হাই বলেন, ‘এলজিইডি স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপ না করে মনগড়া সেতুর ডিজাইন করে। মুল সেতুর কাজ শেষের পর সংযোগ সড়ক নির্মাণ করতে গেলে ডিজাইনে ভুল ধরা পড়ে। সেতুর উচ্চতা অনেক, যে কারণে ভুল ডিজাইনে সংযোগ সড়ক নির্মাণ সম্ভব না। এতে দুই পাড়ে দুটি হাট-বাজার শেষ হয়ে যাবে। এ কারণে কাজ বন্ধ রাখা হয়। তবে ছয় বছর পার হলেও কাজ শুরুর কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেয়নি এলজিইডি।

এ বিষয়ে দশমিনা উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো. মকবুল হোসেন বলেন, আমি যোগ দেওয়ার আগে এ নকশা করা হয়ছিল। সেই নকশায়ই মূল সেতুর কাজ শেষ হয়। পরে ভুল ধরা পড়লে কাজ বন্ধ রাখা হয়। এখন নতুন করে নকশা করা হয়েছে। যার অনুমোদনও শেষ। টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হলেই কাজ শুরু হবে।

এলাকাবাসীর দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, মানুষের দুর্ভোগ লাঘব করার জন্য বিষয়টি নিয়ে এলজিইডির সঙ্গে কথা বলেছি। তারা জানিয়েছে দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *