ভিসি নিয়োগ জটিলতায় অচল ডুয়েট

নতুন উপাচার্য (ভিসি) নিয়োগকে কেন্দ্র করে গাজীপুরের ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) তীব্র অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। নতুন ভিসির নিয়োগ বাতিলসহ তিন দফা দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) টানা ষষ্ঠ দিনে গড়িয়েছে। শিক্ষার্থীদের লাগাতার আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কার্যক্রম পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে। তবে মূল ফটকে কড়াকড়ি কিছুটা শিথিল থাকায় আজ ক্যাম্পাসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রবেশ করতে দেখা গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে আজ দ্বিতীয় দিনের মতো ‘ডুয়েট ব্লকেড’ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে গতকাল সোমবার গাজীপুর সদর থানায় ২৫০ জন অজ্ঞাতপরিচয় শিক্ষার্থীকে আসামি করে মামলা দায়েরের পর আজ বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ব্লকেড কর্মসূচির সমর্থনে শিক্ষার্থীদের প্রকাশ্যে মাঠে দেখা যায়নি। 

মামলা হওয়ার পর থেকে শিক্ষার্থীদের মাঝে তীব্র গ্রেপ্তার আতঙ্ক বিরাজ করছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে তালা ঝুললেও পকেট গেটটি খোলা রাখা হয়েছে, যা দিয়ে সকাল থেকে কিছু শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারী ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছেন। তবে ফটকের সামনে বিভিন্ন আসবাবপত্র ফেলে এখনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে রাখা হয়েছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবালকে ডুয়েটের নতুন ভিসি হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। এই নিয়োগের খবর ছড়িয়ে পড়লে সেদিন থেকেই ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে তারা জয়দেবপুর-শিমুলতলী সড়ক অবরোধ করেন। 

শুক্রবারও আন্দোলন অব্যাহত থাকে এবং শনিবার (১৬ মে) শিক্ষার্থীরা নতুন ভিসিকে ক্যাম্পাসে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করে ‘লাল কার্ড কর্মসূচি’র ব্যানারে মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। সর্বশেষ গত রোববার (১৭ মে) এই নিয়োগকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের দুই পক্ষের মধ্যে দিনভর দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশ ও শিক্ষার্থীসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, ডুয়েটের শিক্ষা ব্যবস্থা, শিক্ষার্থীদের বাস্তবতা, একাডেমিক কাঠামো এবং প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জগুলো অন্যান্য সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে ভিন্ন। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব শিক্ষকদেরই এই জটিলতাগুলো সম্পর্কে সবচেয়ে ভালো অভিজ্ঞতা ও ধারণা রয়েছে। ফলে ডুয়েটের সার্বিক উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বহিরাগত কেউ নয়, বরং অভ্যন্তরীণ শিক্ষকদের মধ্য থেকেই উপাচার্য নিয়োগ করা অধিক কার্যকর হবে। এই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে বলেও জানান শিক্ষার্থীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *