ভিপি নুরের নাম ভাঙিয়ে চাঁদা দাবি, যুব অধিকার পরিষদ নেতা কারাগারে

‘পাঁচ-পাঁচই লাগবে, এক পয়সাও কম হবে না, এটা সরাসরি ভিপি নুরের নির্দেশ’—এমন একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বহিস্কৃত লক্ষ্মীপুর জেলা যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি ফারুক হোসাইনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ১০ কোটি টাকার মানহানির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আজ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে সদর উপজেলার টুমচর ইউনিয়নের কালিরচর এলাকা থেকে ফারুককে গ্রেপ্তার করা হয়। সন্ধ্যায় সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাকে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলাটি দায়ের করেছেন সদ্য বিলুপ্ত জেলা গণঅধিকার পরিষদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক সোলায়মান চৌধুরী।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ভিপি নুরের নাম ভাঙিয়ে মানুষের কাছ থেকে অনৈতিকভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগ ছিল ফারুকের বিরুদ্ধে। প্রমাণ না থাকায় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছিল না। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ৪১ সেকেন্ডের একটি অডিও রেকর্ড ফাঁস হয়। যেখানে তাকে ফারুক হোসাইন নামে এক যুবকের কাছে বিদেশ পাঠানোর নাম করে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করতে শোনা যায় এবং সেটি ‘ভিপি নুরের নির্দেশ’ বলে উল্লেখ করা হয়। অডিওটি নজরকাড়ার পর কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে তাকে বহিস্কার করা হয় এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, এ ধরনের মনগড়া বক্তব্যে নুরুল হক নুরের ১০ কোটি টাকার মানহানি ঘটেছে এবং সংগঠনের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে।

এদিকে, অডিও ভাইরাল হওয়ার পরপরই যুব অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় উপদপ্তর সম্পাদক নাঈম হোসেন শান্ত স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ফারুককে সংগঠন থেকে স্থায়ী অব্যাহতি দেওয়া হয়। পাশাপাশি গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর তার ব্যক্তিগত ফেসবুকে লেখেন, আমার নাম ব্যবহার করে ধান্দাবাজি করে পার পাওয়ার সুযোগ নেই। অভিযুক্তকে বহিস্কারের পাশাপাশি লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপারকে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

তবে গ্রেপ্তারের আগে ফারুক হোসাইন দাবি করেছিলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তার কণ্ঠ সম্পাদনা করা হয়েছে। তিনি কেবল পাসপোর্ট করে দেওয়ার জন্য পাঁচ হাজার টাকার কথা বলেছিলেন, যা এআই দিয়ে পাঁচ লাখ বানায় একটি স্থানীয় চক্র।

লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ জানান, আসামির বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অভিযোগে মামলা দায়েরের পর তাকে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *