ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাইয়ে মহররমের আশুরার মিছিলে বিষপ্রয়োগ ও গণহত্যার ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার (২৬ জুন) বাইকুল্লা এলাকার রে রোড সংলগ্ন রহমতাবাদ কবরস্থানের কাছে মিছিলে অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষের মাঝে বিষাক্ত ক্যাপসুল বিতরণের সময় ফাইয়াজ প্রেমজি নামের এক যুবককে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ওই যুবক স্বীকার করেছে, ওই দিন মিছিলে অংশ নেওয়া অন্তত ১৫ হাজার মানুষকে বিষ খাইয়ে মেরে ফেলার পরিকল্পনা ছিল তার। খবর এনডিটিভির।
আটক ফাইয়াজ প্রেমজি পড়াশোনায় একজন বিবিএ গ্র্যাজুয়েট। পুলিশ জানিয়েছে, তার আন্তর্জাতিক ভ্রমণ রেকর্ড রয়েছে। সে ইতোপূর্বে ইরান ও ইরাক সফর করেছে। আদালত তাকে দুই দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠিয়েছে। এই ঘটনার পেছনে কোনো আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসীর যোগসূত্র বা মূল পরিকল্পনাকারী রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে মুম্বাই পুলিশ।
শুক্রবার আশুরার মিছিলে বিপুল জনসমাগমের সুযোগ নিয়ে ফাইয়াজ ব্যথানাশক ও ইমিউনিটি বুস্টার (রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বর্ধক) বলে ওই ক্যাপসুলগুলো সাধারণ মানুষের মাঝে বিতরণ করছিল। মূলত তিন নারী স্বেচ্ছাসেবকের সততা ও সময়োপযোগী সতর্কতার কারণে এই বিশাল বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে। একজন নারী স্বেচ্ছাসেবক প্রথম ফাইয়াজের সন্দেহজনকভাবে বড়ি বিতরণের বিষয়টি খেয়াল করেন।
স্বেচ্ছাসেবকেরা তাকে থামিয়ে একটি ক্যাপসুল ভেঙে ভেতরে সন্দেহজনক পাউডার দেখতে পান। তাৎক্ষণিকভাবে তারা পুলিশকে খবর দেন। তারপর লাউডস্পিকারে ঘোষণা দিয়ে মিছিলে আসা মানুষকে ওই বড়ি খেতে নিষেধ করেন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফাইয়াজকে আটক করে এবং তার স্টক থেকে প্রায় ১৪ হাজার ৯০০টি বিষাক্ত ক্যাপসুল জব্দ করে। তবে ততক্ষণে বেশ কিছু বড়ি মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়ে গিয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, ফাইয়াজ আরও ৩০ হাজার খালি ক্যাপসুল এবং ৫০ কেজি ফসফরাস কেনার জন্য অর্ডার দিয়েছিল।
মুম্বাই পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (ডিসিপি) জয়ন্ত মীনা নিশ্চিত করেছেন, ক্যাপসুলগুলোতে ইঁদুর মারার বিষে ব্যবহৃত অত্যন্ত মারাত্মক রাসায়নিক যৌগ ‘জিংক ফসফাইড’ মেশানো ছিল। এই বিষাক্ত বড়ি খাওয়ার পর সালমান সায়েদ নামের এক ব্যক্তিসহ অন্তত ১১ জন তীব্র পেটে ব্যথা ও বমিতে আক্রান্ত হয়ে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে সৌভাগ্যবশত দ্রুত চিকিৎসার কারণে তারা সবাই এখন আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন।
চিকিৎসকদের মতে, জিংক ফসফাইড শরীরে প্রবেশ করার পর পাকস্থলীর অ্যাসিডের সঙ্গে বিক্রিয়া করে অত্যন্ত বিষাক্ত ‘ফসফিন গ্যাস’ তৈরি করে। এই গ্যাস সরাসরি মানুষের হার্ট, ফুসফুস, লিভার, কিডনি ও মস্তিষ্কে আঘাত হানে। সবচেয়ে ভয়ানক বিষয় হলো, এই বিষের কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষেধক বা অ্যান্টিডোট নেই। কেবল লক্ষণভিত্তিক জরুরি চিকিৎসা ও ভেন্টিলেটর সাপোর্টের মাধ্যমেই রোগীকে বাঁচানো সম্ভব। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ১২৩ ধারায় বিষপ্রয়েরাগের মাধ্যমে ক্ষতিসাধনের অভিযোগে বাইকুল্লা থানায় মামলা দায়ের করে এই ঘটনার তদন্ত চালানো হচ্ছে।