ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ কেন্দ্র থেকে তুমুল হর্ষধ্বনির মধ্য দিয়ে আকাশে উঠে যায় অরবিটাল রকেট ‘বিক্রম-১’। ছবি : এএফপি
ভারতের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বেসরকারিভাবে তৈরি অরবিটাল রকেট ‘বিক্রম-১’ সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। দেশটির মহাকাশ সংস্থার মতে, বিশ্বব্যাপী মহাকাশ অর্থনীতিতে নিজেদের অংশীদারত্ব আরও বাড়াতে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শিক্তিধর দেশ হিসেবে এটি তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
স্কাইরুট অ্যারোস্পেসের নির্মাণ করা এবং স্বল্প-উচ্চতার কক্ষপথে (লো-আর্থ অরবিট) ছোট উপগ্রহ বহনের জন্য বিশেষভাবে নকশা করা ‘বিক্রম-১’ রকেটটি আজ শনিবার (১৮ জুলাই) অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ কেন্দ্র থেকে তুমুল হর্ষধ্বনির মধ্য দিয়ে আকাশে উঠে যায়।
এর পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া একটি পোস্টে স্কাইরুট অ্যারোস্পেস বলে, ‘হ্যালো মহাকাশ, আমরা চলে এসেছি! বিক্রম-১-এর টেস্ট ফ্লাইট-১ তার মিশন সম্পন্ন করেছে। ভারতের ইতিহাসে বেসরকারি খাতের প্রথম মহাকাশ উৎক্ষেপণ সফলভাবে সম্পন্ন হলো।’
বিক্রম-১ রকেটটি উচ্চতায় প্রায় সাত তলা ভবনের সমান এবং এটি ৩৫০ কেজি (৭৭১ পাউন্ড) পর্যন্ত ওজনের পণ্য বা যন্ত্রপাতি বহনে সক্ষম।
সরকারি প্রতিষ্ঠান ‘ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল স্পেস প্রমোশন অ্যান্ড অথরাইজেশন সেন্টার’-এর চেয়ারম্যান পবন গোয়েঙ্কা বলেন, ভারতের কোনো বেসরকারি কোম্পানির প্রথম অরবিটাল উৎক্ষেপণ হিসেবে এই অর্জন প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি কিছু।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই উদ্যোগকে ভারতের মহাকাশ যাত্রার একটি যুগান্তকারী মুহূর্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন।
নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘আমাদের বেসরকারি খাতের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ নতুন দিগন্তের উন্মোচন করছে এবং উদ্ভাবনের গতিকে ত্বরান্বিত করছে। এই অর্জন অগণিত তরুণকে আরও বড় স্বপ্ন দেখতে এবং নির্ভয়ে নতুন কিছু উদ্ভাবন করতে অনুপ্রাণিত করবে।’
রকেটটি বিভিন্ন ধরনের বৈচিত্র্যময় পেলোড (যন্ত্রপাতি বা পণ্য) বহন করছে, যার মধ্যে ল্যাবরেটরিতে তৈরি হীরা এবং মহাকাশের বর্জ্য অপসারণে সক্ষম রোবোটিক আর্ম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এছাড়া, এই মহাকাশযানে ১৮ ক্যারেট সোনার তৈরি একটি ক্ষুদ্রাকৃতির রকেটও রয়েছে, যার ভেতরে ভারতের বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী বিক্রম সারাভাই, সি ভি রমন এবং ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ও প্রখ্যাত অ্যারোস্পেস প্রকৌশলী এ পি জে আব্দুল কালামের ক্ষুদ্র ভাস্কর্য রয়েছে।
ইন্ডিয়ান স্পেস রিসার্চ অর্গানাইজেশন (ইসরো)-এর দশকের পর দশক ধরে করা বিনিয়োগের ওপর ভিত্তি করে ভারতের মহাকাশ আকাঙ্ক্ষা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যাপক গতি পেয়েছে।
২০২০ সালে এই খাতটি বেসরকারি উদ্যোক্তাদের জন্য উন্মুক্ত করার পর থেকে ভারতের মহাকাশ অর্থনীতি (বর্তমান মূল্য প্রায় ৮.৪ বিলিয়ন ডলার) দ্রুত প্রসার লাভ করেছে এবং বর্তমানে দেশটিতে ৪০০-এরও বেশি মহাকাশ বিষয়ক স্টার্টআপ রয়েছে।
রকেটটির সফল উৎক্ষেপণের পর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেন, ‘ভারতের মহাকাশ আকাঙ্ক্ষা এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে গেল।’
২০২৩ সালের আগস্ট মাসে রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের পর চতুর্থ দেশ হিসেবে চাঁদের বুকে সফলভাবে চালকহীন মহাকাশযান অবতরণ করায় ভারত।
ইসরো-এর সাবেক চেয়ারম্যান কে. সিভান মহাকাশ খাতের স্টার্টআপগুলোর কাজের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, দেশ এখন বেসরকারি খেলোয়াড়দের জন্য এই খাত উন্মুক্ত করার ‘বীজ বপনের ফলাফল’ দেখছে।
রকেট বেসরকারি রকেট উৎক্ষেপণ কক্ষপথ বিক্রম-১
sn/sks