স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিরোধী দল যে ভাষায় কথা বলছে সেটি গণতন্ত্রের ভাষা না। আমরা মেজরিটি পেয়েছি, আমরা সংসদ চালাবো দেশ চালাবো। সেটিতে যদি আমরা ব্যর্থ হই তখন আপনার বলবেন দেশ চালাতে পারেন নাই। কাজ করার আগেই আপনার রাস্তায় বেরিয়ে পড়ছেন। আমরা সকলে গণতন্ত্রের ভাষায় কথা বলি, গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত হতে দেই, জনগনের প্রতিনিধিকে কাজ করতে দেই। তাহলে দেশের উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে পারবো। উন্নয়নের কাজ বাস্তবায়ন করতে সময় লাগে। এক-দুই দিনে উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন হয় না।
মন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে বিরোধী দল রয়েছে। কিন্তু দূর্ভাগ্যক্রমে তারা আগের মত ভূমিকা পালন করতে শুরু করেছে। স্বৈরাচার হাসিনা যে ভাষায় কথা বলেছে, দেশের বিরোধীও সেই ভাষায় কথা বলছে। তারা কথায় কথায় বলছে করতে দিব না, চলতে দিব না। কাজ করতে পারবেন না। অথচ আমাদের সরকারের বয়স হয়েছে মাত্র ৪ থেকে ৫ মাস। এর মধ্যে দেশে বহু পরিবর্তন এনেছে সরকার।
রবিবার (৯ আগস্ট) দুপুরে রংপুর শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক চ্যারিটি সংস্থা লাভ শেয়ার বিডি এর নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত ‘সুবিধাবঞ্চিতদের স্বাবলম্বীকরণ প্রকল্প’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশের ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি ও বিপর্যস্ত প্রশাসনকে ঢেলে সাজাতে বর্তমান সরকার চেষ্টা করছে। এত তাড়াতাড়ি এসব বাস্তবায়ন হয় না, আমাদের হাতে কোন আলাদিনের চেরাগ নেই। তাদের ভাষায় এই মুর্হুতে করতে হবে। দেশে জ্বালানি সমস্যা রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার গত ১৫ বছরে দেশে একটিও গ্যাস ও তেলের খনি অনুসন্ধান করেনি। তারা বাপেক্সকে পঙ্গু করে রেখেছিল। আমরা দায়িত্ব পাওয়ার পর দেশে তেল ও গ্যাসের কুপ খননের চেষ্টা করছি। কুপ খননের জন্য টেন্ডার হয়েছে।
তেল-গ্যাস আমদানী নিয়ে মন্ত্রী বলেন, তেল ও গ্যাস বিদেশ থেকে আমদানী করতে হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে সেটার দাম বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বেড়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে আমাদের তেল-গ্যাস আমদানীতে ৪ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে। অথচ দেশের মানুষ কিন্তু একদিনও তেল-গ্যাস ছাড়া থাকেনি। সরবরাহ কিছুটা কমেছে তবে চরম সংকট দেখা যায়নি। দেশে যেটুকু সংকট রয়েছে সেটি অল্প সময়ের মধ্যে সমাধান করা হবে। এছাড়া জাহাজ ভাড়া বাড়ার কারণে নিত্য প্রয়োজনীয় কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, বিরোধী যে ভাষায় কথা বলছে সেটি গণতন্ত্রের ভাষা না। আমরা মেজরিটি পেয়েছি, আমরা সংসদ চালাবো দেশ চালাবো। সেটিতে যদি আমরা ব্যর্থ হই তখন আপনার বলবেন দেশ চালাতে পারেন নাই। কাজ করার আগেই আপনার রাস্তায় বেরিয়ে পড়ছেন। আমরা সকলে গণতন্ত্রের ভাষায় কথা বলি, গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত হতে দেই, জনগনের প্রতিনিধিকে কাজ করতে দেই। তাহলে দেশের উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে পারবো। উন্নয়নের কাজ বাস্তবায়ন করতে সময় লাগে। এক-দুই দিনে উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন হয় না।
তিনি বলেন, বিএনপি সরকার দায়িত্ব পাওয়ার পর দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়েছে, সংসদে কথা বলার সুযোগ তৈরী হয়েছে। পত্রিকায় ইচ্ছেমত সাংবাদিকরা লিখতে পারছেন। আর সোস্যাল মিডিয়াতে তো যা ইচ্ছে তাই বলা হচ্ছে। এসব নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে আমাদের কাজ করতে হচ্ছে। আমরা জনগণের কাছে তাদের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য প্রতিশ্রুতি বদ্ধ। সেই লক্ষ্যে বিএনপি সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
লাভ শেয়ার বিডির পরিচালক জাহিদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও রাষ্ট্রদূত মুসফিকুল ফজল আনসারী, সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য অ্যাড. রেজেকা সুলতানা ফেন্সি, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু। বক্তব্য রাখেন, রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন, জেলা পরিষদ প্রশাসক সাইফুল ইসলামসহ অন্যরা। শেষে রংপুর অঞ্চলের ২৫টি সুবিধাবঞ্চিত ব্যক্তির মাঝে ২৫টি চা দোকান ঘর হস্তান্তর করা হয়।
এসএন/পিডিকে