ইসলামী ব্যাংকে ‘বায়তুল মাল’-এর নামে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা চাঁদা আদায় করা হয়। এই চাঁদা দিতে কেউ অনাগ্রহ প্রকাশ করলে তাকে বদলি ও হয়রানি করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন–ব্যাংকটিতে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, যেন বায়তুল মাল না দিলে সেখানে চাকরি করার কারও অধিকার নেই।
সোমবার (২২ জুন) চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালি মোড়সংলগ্ন বাংলাদেশ ব্যাংকের আঞ্চলিক কার্যালয়ের সামনে পাঁচটি ইসলামি ব্যাংকের চাকরিচ্যুত ব্যাংকারদের মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচিতে এই অভিযোগ করা হয়।
মানববন্ধনে যোগ দেওয়া ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাঈদ উল্লাহ মানববন্ধন চলাকালে সাংবাদিকদের অভিযোগ করে বলেন, ‘যেদিন বেতন হতো, সেদিন একটি দল ব্যবস্থাপকের কক্ষে আসত। তারা শাখা ব্যবস্থাপকের কক্ষে বসে খাওয়া-দাওয়া করতেন। কিছুক্ষণ পর ব্যবস্থাপকের পক্ষ থেকে সবাইকে একটি বার্তা পাঠানো হতো। সবাই যেন ইয়ানত কিংবা বায়তুল মাল দিয়ে দেন। অফিস ছুটির আগে অফিসের পিয়ন অথবা দারোয়ান তালিকা নিয়ে টেবিলে টেবিলে হাজির হতেন। যার জন্য যত টাকা নির্ধারণ করা হয় তা তিনি দিতে বাধ্য। যদি কেউ কম দিতে চান কিংবা দিতে গড়িমসি করেন, তাহলে তার কপালে জোটে নানা দুর্ভোগ। আমরা চাকরি করেছি কোনো রাজনৈতিক দলকে মাসে মাসে অর্থ দেওয়ার জন্য নয়। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে আমরা কাজ করেছি নিজের পরিবারের জন্য। কিন্তু তারা জোর করে আমাদের কাছ থেকে বায়তুল মাল আদায় করতেন। শুধু বায়তুল মাল নয়, আরও নানাভাবে দলটির পক্ষ থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হতো। ৫ আগস্টের পর বায়তুল মাল আদায়ের হার আরও বেড়ে যায়। আমরা কিছুটা গড়িমসি করেছি বলেই আমাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।’
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া একাধিক কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে ‘বায়তুল মাল’ বা দলীয় তহবিলের নামে বছরের পর বছর ধরে বাধ্যতামূলকভাবে কোটি টাকা চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এই অর্থ তোলা হয়। তারা জানান, বায়তুল মালের নামে দলীয় চাঁদা আদায়ের বিষয়টি ওপেন সিক্রেট হলেও বিষয়টি সেভাবে প্রকাশ পায়নি। তবে সম্প্রতি বিশিষ্ট অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি পোস্ট এবং কিছু ব্যাংকিং নথিপত্র ফাঁসের পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
ভুক্তভোগীরা জানান, ইসলামি ভাবধারা, একচেটিয়া আস্থা ও গ্রাহক-নির্ভরতাকে পুঁজি করে ব্যাংকটি দেশের শীর্ষস্থানে পৌঁছালেও এর ভেতরে একটি নির্দিষ্ট দলের নামে নীরব চাঁদাবাজি চলছে দীর্ঘদিন ধরে। ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদমর্যাদা অনুযায়ী প্রতি মাসে ১ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়, যা কর্মকর্তাদের বেতন থেকে কেটে রাখা বা সংগ্রহ করা হয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ব্যাংকের অভ্যন্তরে সব পর্যায়ে ওই নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের অনুসারীরা প্রভাবশালী অবস্থানে থাকায় সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জিম্মি হয়ে পড়েছেন। কেউ এই চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বা বাধা দিলে তাকে কর্মস্থলে লাঞ্ছিত ও হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি কম টাকা দিতে চাইলেও বিভিন্ন মাধ্যমে হেনস্তা করাসহ শাস্তিমূলক হিসেবে দূরবর্তী কোনো শাখায় বদলি (পানিশমেন্ট ট্রান্সফার) করা হয়।
প্রভাবশালী এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেও লাভ হয় না বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। উল্টো অভিযোগকারীর বিরুদ্ধেই নানামুখী কলাকৌশল ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। চাকরি এবং জীবনের নিরাপত্তার ভয়ে সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পান না। তবে সাম্প্রতিক সময়ে অতিষ্ঠ হয়ে কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ব্যাংকের অভ্যন্তরে সব পর্যায়ে ওই নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের অনুসারীরা প্রভাবশালী অবস্থানে থাকায় সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জিম্মি হয়ে পড়েছেন। কেউ এই চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বা বাধা দিলে তাকে কর্মস্থলে লাঞ্ছিত ও হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি কম টাকা দিতে চাইলেও বিভিন্ন মাধ্যমে হেনস্তা করাসহ শাস্তিমূলক হিসেবে দূরবর্তী কোনো শাখায় বদলি (পানিশমেন্ট ট্রান্সফার) করা হয়।
প্রভাবশালী এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেও লাভ হয় না বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। উল্টো অভিযোগকারীর বিরুদ্ধেই নানামুখী কলাকৌশল ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। চাকরি এবং জীবনের নিরাপত্তার ভয়ে সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পান না। তবে সাম্প্রতিক সময়ে অতিষ্ঠ হয়ে কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেছেন।
সূত্র: খবরের কাগজ
এসএন/কে