বাংলাদেশের জ্বালানি ও নবায়নযোগ্য খাতে বিনিয়োগে মালয়েশিয়াকে আহ্বান

বাংলাদেশের জ্বালানি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তারা দীর্ঘমেয়াদি ও পারস্পরিক লাভজনক অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে পারেন।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) কুয়ালালামপুরের একটি হোটেলে মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টংয়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান। এ সময় ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী ও সহ-সভাপতি সালিম সোলায়মান উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাতে তাসকীন আহমেদ বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিমাণ আরও বাড়ানোর জন্য নতুন নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র খুঁজে বের করার পাশাপাশি দুই দেশের সরকারের আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, পারস্পরিক আস্থা, অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়ীরা নতুন ব্যবসার সুযোগ তৈরি করতে পারেন। বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহ, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগেরও বড় সম্ভাবনা রয়েছে।

ডিসিসিআই সভাপতি জানান, বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি জ্বালানি সরবরাহ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রণোদনা এবং বিনিয়োগ-সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা ঘোষণা করেছে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে পারেন। প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন ও যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে এ সহযোগিতাকে আরও কার্যকর ও টেকসই করা সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশের এমএফএস মডেল মালয়েশিয়ায় অনুসরণের সুযোগ

সাক্ষাতে বাংলাদেশের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) খাতের সাফল্যের বিষয়টিও তুলে ধরেন তাসকীন আহমেদ।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে এমএফএসের ব্যবহার ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় ও সফল হয়েছে। এ খাতের কার্যকর মডেল বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে। মালয়েশিয়াও বাংলাদেশের এ অভিজ্ঞতা থেকে উপকৃত হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি করে। ফলে দেশটি একটি বড় ও সম্ভাবনাময় ভোক্তা বাজারে পরিণত হয়েছে।

বাংলাদেশের এই বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে মালয়েশিয়ার রফতানিকারকদের বাণিজ্যিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশে রফতানি বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। একইসঙ্গে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব জোরদার, পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং পারস্পরিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন ডিসিসিআই সভাপতি।

বাংলাদেশের তরুণদের দক্ষ করে তোলার প্রস্তাব

মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টং বলেন, দেশটির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে বিপুলসংখ্যক দক্ষ জনবলের চাহিদা রয়েছে।

বাংলাদেশের বৃহৎ তরুণ জনগোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তোলা গেলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে তাদের জন্য উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য আন্তর্জাতিক লেনদেন ব্যবস্থার আরও আধুনিকায়ন প্রয়োজন।

এ ক্ষেত্রে ইসলামিক ফাইন্যান্সিংয়ের সম্প্রসারণ, নতুন ধরনের আর্থিক পণ্য তৈরি এবং আরও কার্যকর আর্থিক অবকাঠামো গড়ে তোলায় মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য কাজে লাগতে পারে বলে মত দেন লিউ চিন টং।

সাক্ষাতে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, প্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন, আর্থিক সেবা এবং পণ্য বৈচিত্র্যকরণসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এসএন/পিডিকে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *