ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের হয়ে এমএলএসে আলো ছড়াচ্ছেন ভাই কাভান ও কুইন সুলিভান। আর তাদের যমজ ভাই রোনান ও ডেকলান সুলিভান নিজেদের দক্ষিণ এশীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছেন।
মালদ্বীপে ভারতের বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস টাইব্রেকারে জিতে ২০২৬ সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ যুব দল। এপ্রিলের এই শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত দুই ভাই রোনান ও ডেকলান।
সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপ দিয়েই বাংলাদেশের হয়ে অভিষেক করেন রোনান ও ডেকলান সুলিভান। নিজেদের প্রথম টুর্নামেন্টে দারুণ পারফরম্যান্স করেন রোনান। পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল সহ ফাইনালে শেষ পেনাল্টি শটে গোল করে শিরোপা এনে দেন বাংলাদেশকে। দুই ম্যাচে মাঠে নেমে নিজের ঝলক দেখিয়েছেন ডেকলানও।
গার্ডিয়ানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই দুজন কথা বলেছেন। জানিয়েছেন বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে তাদের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য।
শুনতে অবাস্তবই মনে হতে পারে। পুরুষ কিংবা নারী কোনো বিশ্বকাপেই এখন পর্যন্ত ভারতীয় উপমহাদেশের কোনো দেশ খেলতে পারেনি। অথচ আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ে বাংলাদেশের উন্মাদনার কমতি নেই।
পুরুষদের বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা আরও বাড়ার সম্ভাবনা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলারদের সঙ্গে দেশের একটি সেতুও তৈরি হচ্ছে। আর এই দুই বিষয় মিলিয়ে বাংলাদেশের ফুটবলের সামনে খুলে যেতে পারে সম্পূর্ণ নতুন এক সম্ভাবনার দুয়ার।
বাংলাদেশ দলের সঙ্গে যুক্ত ডেকলান সেই স্বপ্নের কথাই বলছেন। তার ভাষায়, বিশ্বকাপে যদি ৬৪টি দল অংশ নেয়, তাহলে তার কথা হচ্ছে, ‘আমরা যদি এসব খেলোয়াড়কে নিয়ে আসতে পারি, তখন আমাদের যোগ্যতা অর্জনের সুযোগ আছে।’
তার কাছে সেটিই স্বপ্ন। আর শেষ পর্যন্ত সেটিই চূড়ান্ত লক্ষ্য। ডেকলান তার বন্ধু, সাবেক ইউনিয়ন একাডেমির সতীর্থ এবং পেন স্টেটের উইঙ্গার নেহান হাসানের কথাও উল্লেখ করেছেন। সম্ভাব্য সংযোজন হিসেবে বলেছেন স্ট্যানফোর্ডের স্ট্রাইকার ট্রেভর ইসলামের নামও। তার আশা, সামনে এমন আরও অনেক সম্ভাবনাময় খেলোয়াড়কে বাংলাদেশের প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করা যাবে।
রোনানের কাছেও স্বপ্নটা একই রকম। তার ভাষায়, ‘দেশের হয়ে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেলে সেটা হবে অবিশ্বাস্য। বাংলাদেশকে নিয়ে যে ভালোবাসা ও সমর্থন দেখেছি, এমন অভিজ্ঞতা আগে কখনো হয়নি।’
এসএন/পিডিকে