প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গভীর করা এবং বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ‘জনশক্তি থেকে কৌশলগত অংশীদারত্ব : বাংলাদেশ-সৌদি আরব সম্পর্কের পুনর্বিন্যাস’ শীর্ষক এক সেমিনারে অংশ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের এ কথা বলেন হুমায়ুন কবির।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক শক্তিশালী, বিনিয়োগ সম্পর্কও শক্তিশালী। জাপান সফরে প্রধান অগ্রাধিকার হবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গভীর করা ও বিনিয়োগ বাড়ানো।
চার দিনের সফরে আগামী ২৬ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রীকে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে সরকারি সফরে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানায় জাপান। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারে টোকিওর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।
হুমায়ুন কবির বলেন, অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ সফরে বিভিন্ন খাতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন অংশীদারত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সুনির্দিষ্ট সহযোগিতার ক্ষেত্র নির্ধারণ করে বাংলাদেশ পারস্পরিক বিনিয়োগের অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে চায় বলেও জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
জাপানকে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ও দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, দেশটির বিনিয়োগে বাস্তবায়িত কয়েকটি মেগা প্রকল্প দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও সামগ্রিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে সহায়তা করেছে।
আসন্ন সফরে বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা ও পারস্পরিক বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে জানান হুমায়ুন কবির। তিনি স্মরণ করেন, জাপানের জ্বালানি সংকটের সময় দেশটির প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে তারেক রহমান ভার্চ্যুয়ালি একটি জ্বালানিবিষয়ক সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন। ওই সম্পৃক্ততা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি জাপান সরকারের আস্থা তৈরিতে সহায়তা করেছে বলে মনে করেন তিনি।
এপ্রিলে এশিয়াজুড়ে জ্বালানিসংক্রান্ত সমস্যা আরও কার্যকরভাবে মোকাবিলায় জাপানের নেতৃত্বাধীন একটি উদ্যোগকে স্বাগত জানায় বাংলাদেশ। সে সময় বাংলাদেশ জানায়, সব দেশকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে, কারণ কোনো একক দেশের পক্ষে একা এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।
জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে ওই উদ্যোগ নিয়ে আয়োজিত অনলাইন বৈঠকে অংশ নেন তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রস্তাবিত সৌদি আরব সফর সম্পর্কে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, সৌদি যুবরাজ প্রধানমন্ত্রীকে দেশটিতে সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন এবং তিনি সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন।
হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন এবং খুব শিগগিরই কোনো এক সময়ে সফর করবেন।
সৌদি যুবরাজও বাংলাদেশ সফরে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন জানিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে তাকে স্বাগত জানাবে ঢাকা।
এ ছাড়া পবিত্র মক্কা ও মদিনার সুরক্ষা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানান, এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট ও আপসহীন। তিনি বলেন, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হিসেবে মুসলিমবিশ্বের পবিত্র স্থান ও মসজিদগুলোর সুরক্ষায় কোনো উদ্যোগে বাংলাদেশের সহযোগিতা বা সহায়তা চাওয়া হলে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির (এনএসইউ) সেন্টার ফর মাইগ্রেশন স্টাডিজ যৌথভাবে সেমিনারটির আয়োজন করে। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিপক্ষীয় বিষয়ক সচিব ড. মো. নজরুল ইসলাম এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান সচিব মো. মোখতার আহমেদ।
সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন বিআইআইএসএসের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ এস এম রিদওয়ানুর রহমান ও এনএসইউর উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী।