প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পেয়ে ৬ ঘণ্টায় বর্জ্যমুক্ত ময়মনসিংহ নগরী

ঈদের দিন পশুর বর্জ্য নামার পর মাত্র ছয় ঘণ্টার মধ্যে অর্থাৎ নির্ধারিত সময় সন্ধ্যা ৬টার আগেই সম্পূর্ণ বর্জ্যমুক্ত হয়েছে ময়মনসিংহ মহানগরী। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ ঈদ উপহারে উজ্জীবিত হয়ে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের (মসিক) ৮০০ পরিচ্ছন্নতাকর্মী প্রশাসকের সরাসরি নেতৃত্বে মাঠে নেমে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেন। আজ শনিবার (৩০ মে) ঈদের তৃতীয় দিনেও নগরের কোথাও কোরবানির বর্জ্যের স্তূপ বা দুর্গন্ধ দেখা যায়নি। পরিচ্ছন্নতার এই অভাবনীয় ধারাবাহিকতায় চরম স্বস্তি প্রকাশ করেছেন নগরবাসী।

এর আগে গত বুধবার (২৭ মে) পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের এই বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রামের ঘোষণা দিয়েছিলেন মসিক প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান। ঈদের দিন দুপুর ১২টা থেকে শুরু হওয়া সেই অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি প্রশাসকের।

মসিক প্রশাসক জানান, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাদের প্রত্যেক পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে কাজে উৎসাহিত করতে আলাদাভাবে পাঁচ হাজার টাকা করে ঈদ বোনাস দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই উপহার পেয়ে কর্মীরা অত্যন্ত আনন্দিত মনে শতভাগ আন্তরিকতার সঙ্গে দ্রুততম সময়ে শহর পরিষ্কার করার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তারা তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন।’

প্রধানমন্ত্রীর এই বিশেষ উপহার পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন মাঠপর্যায়ের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরাও। নগরের শম্ভুগঞ্জ এলাকায় কর্মরত পরিচ্ছন্নতাকর্মী মো. সবুজ বলেন, ‘ঈদের দিনে সবাই যখন আনন্দ করে, আমরা তখন ময়লা টানি। এবার প্রধানমন্ত্রী আমাদের কষ্টের কথা চিন্তা করে আলাদা পাঁচ হাজার টাকা ঈদ বোনাস দেওয়ায় আমাদের কষ্ট দূর হয়ে গিয়েছিল। আমরা কলিজা দিয়ে কাজ করেছি এবং প্রশাসকের নির্দেশ মতো বিকেলের মধ্যেই শহর পরিষ্কার করে দিয়েছি।’

আরেক পরিচ্ছন্নতাকর্মী রাসেল মিয়া বলেন, বোনাসের টাকা পাওয়ায় আমাদের পরিবারেও ঈদের আনন্দ দ্বিগুণ হয়েছিল। আমরা প্রশাসক স্যারকে যে কথা দিয়েছিলাম দুপুরের পর বর্জ্য নামার সাথে সাথেই একযোগে লেগে পড়ব, আমরা ঠিক সেটাই করেছি। সন্ধ্যার আগেই ময়মনসিংহের রাস্তাঘাট ও ড্রেন বর্জ্যমুক্ত করতে পেরে আমাদের খুব ভালো লাগছে।

প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান ঈদের আগে জানিয়েছিলেন, শহরের কোরবানির বর্জ্য সাধারণত দুপুর ২টার পর থেকে পাওয়া যায়। সেই অনুযায়ী দুপুর ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই ৩ ঘণ্টাকে মূল ক্র্যাশ প্রোগ্রাম হিসেবে ধরে কাজ করা হয়। ৮০০ কর্মীর সঙ্গে প্রশাসক নিজেও মাঠে থেকে তদারকি করায় নির্ধারিত সময়ের আগেই নগরের প্রধান সড়ক ও অলিগলি পরিচ্ছন্ন করা সম্ভব হয়। পাশাপাশি পশুর হাটগুলোও ঈদের দিন ফজরের নামাজের পরপরই পানির ও ময়লার গাড়ি দিয়ে পরিষ্কার করা হয়। এছাড়া সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ঘরে ঘরে পলিব্যাগ ও ব্লিচিং পাউডার পৌঁছে দেওয়ায় নগরবাসীও সচেতনভাবে নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য রেখে করপোরেশনকে সহযোগিতা করেছেন।

আজ শনিবার সকালে সরেজমিন নগরীর ব্রীজ মোড়, গাঙ্গিনাপার, নতুন বাজার, জিলা স্কুল মোড়, কলেজ রোড, চরপাড়া, মাসকান্দা, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাসহ আরও বেশ কয়েকটি স্থানে গিয়ে কোরবানির কোনো ময়লা ও রক্তের দাগ দেখা যায়নি।

ময়মনসিংহ নগরীর সানকিপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোস্তাক আহমেদ জানান, বিগত বছরগুলোতে দেখা যেত ঈদের দুই-তিন দিন পরও নগরীর অলিগলিতে কোরবানির বর্জ্য পড়ে থাকত, বাতাসে ছড়াত তীব্র দুর্গন্ধ। বৃষ্টি হলে সেই রক্ত আর ময়লা পানি মাড়িয়ে আমাদের চলতে হতো। কিন্তু এবার চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। ঈদের দিন বিকেলের মধ্যেই পুরো এলাকা পরিষ্কার হয়ে গেছে। আজ ঈদের তৃতীয় দিনেও শান্তিপাড়া বা আশপাশের কোথাও কোনো ময়লার স্তূপ কিংবা দুর্গন্ধের বালাই নেই। মাত্র ছয় ঘণ্টার মধ্যে পুরো শহরকে বর্জ্যমুক্ত করার এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।

টাউন হল এলাকার বাসিন্দা জহির রায়হান বলেন, এবারের ঈদে নগর প্রশাসনের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। সিটি প্রশাসক নিজে দাঁড়িয়ে থেকে তদারকি করেছেন এসব কাজ। দ্রুত বর্জ্য সরানোর কারণে এবার আমরা একটি দুর্গন্ধহীন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ঈদ উপভোগ করতে পেরেছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *