পারস্য উপসাগরে আটকে থাকা বাংলাদেশি জাহাজ এমভি বাংলার জয়যাত্রার নাবিকদের এবারও ঈদ কাটল পরিবার থেকে দূরে।
বুধবার (২৭ মে) পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ তারা আদায় করেছেন গভীর সমুদ্রে নোঙর করা জাহাজেই। ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সামরিক উত্তেজনার কারণে প্রায় তিন মাস ধরে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে জাহাজটি। এর আগে ঈদুল ফিতরও তারা একইভাবে জাহাজে কাটিয়েছিলেন।
বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই উপকূল থেকে প্রায় ২৩ নটিক্যাল মাইল দূরে গভীর সমুদ্রে নোঙর করে আছে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’। জাহাজটিতে ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক ও প্রকৌশলী রয়েছেন।
জাহাজটির চিফ ইঞ্জিনিয়ার রাশেদুল হাসান কিশোর জানান, ঈদের সকালে সবাই একসঙ্গে জাহাজে জামাতে অংশ নেন। নামাজ শেষে মোনাজাতে ছিল পরিবার-পরিজনের কাছে নিরাপদে ফিরে যাওয়ার আকুতি।
তিনি বলেন, পরিবার ছাড়া দ্বিতীয় ঈদ কাটছে সমুদ্রে। সবাই মানসিকভাবে চাপে থাকলেও একে অপরকে সাহস দিচ্ছি।
১৮০ মিটার দীর্ঘ বাল্ক ক্যারিয়ার এমভি বাংলার জয়যাত্রা সৌদি আরবের রাস আল খাইর বন্দর থেকে প্রায় ৩৭ হাজার টন ফসফেট সার নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন ও ডারবান বন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিল। তবে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জেরে সৃষ্ট উত্তেজনায় জাহাজটি হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে পারেনি।
যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে দুই দফায় হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা চালায় জাহাজটি। প্রথমবার ইরানি কর্তৃপক্ষের অনুমতি না পেয়ে ফিরে যেতে হয়। পরে দ্বিতীয়বার প্রণালিতে প্রবেশের পর ইরানি নৌবাহিনীর সতর্কবার্তার মুখে আবারও পিছু হটে জাহাজটি। পরবর্তী সময়ে সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি এড়াতে জাহাজটিকে নিরাপদ অবস্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর থেকেই দুবাই উপকূলের গভীর সমুদ্রে নোঙর করে আছে জাহাজটি।
বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন জানিয়েছে, জাহাজে থাকা নাবিকদের জন্য পর্যাপ্ত খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও জ্বালানির ব্যবস্থা রয়েছে। ঈদ উপলক্ষে বিশেষ খাবারের আয়োজনও করা হয়েছে। এছাড়া স্যাটেলাইটের মাধ্যমে নিয়মিত নাবিকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
এসএন/পিডিকে