যে ম্যাচ ঘিরে ছিল বজ্রঝড়ের শঙ্কা, উচ্চতার চ্যালেঞ্জ আর অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামের তীব্র সমর্থক-চাপ, সেই ম্যাচ শেষ হলো বিশ্বকাপের অন্যতম নাটকীয় লড়াই হিসেবে।
মেক্সিকো সিটির অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে আজ শেষ ষোলোর মহারণে ১০ জনের ইংল্যান্ড ৩-২ গোলে হারিয়েছে স্বাগতিক মেক্সিকোকে। এই জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে নরওয়ের মুখোমুখি হবে থমাস টুখেলের দল।
ম্যাচ শুরুর আগে বজ্রপাতের কারণে প্রায় এক ঘণ্টা দেরিতে খেলা শুরু হয়। শুরু থেকেই দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও প্রথম গোলের জন্য অপেক্ষা করতে হয় ৩৬ মিনিট পর্যন্ত।
বুকায়ো সাকার নিখুঁত ক্রস থেকে দুর্দান্ত হেডে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন জুড বেলিংহাম। গোলের ধাক্কা সামলানোর আগেই আরও একবার জালে বল জড়ান এই মিডফিল্ডার। মাত্র দুই মিনিটের ব্যবধানে হ্যারি কেনের পাস কাজে লাগিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন বেলিংহাম। মুহূর্তেই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় থ্রি লায়ন্স।
তবে মেক্সিকো হাল ছাড়েনি। প্রথমার্ধের শেষ দিকে ফ্রি-কিক থেকে জুলিয়ান কিনিওনেস গোল করে ব্যবধান কমিয়ে ২-১ করেন। ফলে বিরতিতে ফিরেই ম্যাচে ফেরার আশা জাগায় স্বাগতিকরা।
৫৯ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনকে বক্সে ফাউল করলে ভিডিও সহকারী রেফারির সহায়তায় ইংল্যান্ড পেনাল্টি পায়। স্পটকিক থেকে হ্যারি কেন গোল করে ব্যবধান ৩-১ করেন।
কিন্তু কয়েক মিনিট পরই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। হেসুস গাইয়ার্দোর পায়ে বিপজ্জনক ট্যাকল করার দায়ে প্রথমে হলুদ কার্ড দেখলেও ভিএআর পর্যালোচনার পর ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডার জারেল কোয়ানসাহকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি। শেষ প্রায় ৩৫ মিনিট ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় ইংল্যান্ডকে।
ম্যাচের ৬৯ মিনিটে মেক্সিকোভিএআরের সহায়তায় পেনাল্টি পায়। রাউল হিমেনেস নিখুঁত শটে গোল করে ব্যবধান কমিয়ে ৩-২ করেন।
এরপর শুরু হয় একের পর এক আক্রমণ। কর্নারের পর কর্নার, বক্সের ভেতরে চাপ, দূরপাল্লার শট—সবকিছু দিয়েই সমতায় ফেরার চেষ্টা চালায় মেক্সিকো। কিন্তু প্রতিবারই ইংল্যান্ডের রক্ষণের দেয়াল হয়ে দাড়ান গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সেভ করে তিনি দলকে বাঁচিয়ে রাখেন।
অন্যদিকে যোগ করা হয় ১১ মিনিট। সেই সময়েও দমেনি মেক্সিকো। তবে ইংল্যান্ডের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি তারা। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই স্বস্তির উল্লাসে মেতে ওঠেন টুখেলের শিষ্যরা।
এই জয়ে শেষ আটে উঠেছে ইংল্যান্ড। আর স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে স্বাগতিক মেক্সিকোর, যারা পুরো টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মতো তিন গোল হজম করে বিদায় নিল।
এসএন/পিডিকে