বাল্টিক সাগরে অবস্থিত কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিটমহল ‘কালিনিনগ্রাদ’ অবরুদ্ধ করার যেকোনো ধরনের চেষ্টার বিরুদ্ধে ন্যাটোকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছে রাশিয়া। পশ্চিমা সামরিক জোটটি কালিনিনগ্রাদ বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করলে পারমাণবিক অস্ত্রসহ সমস্ত সামরিক সক্ষমতা ব্যবহার করতে প্রস্তুত রয়েছে বলে ন্যাটো সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছে পাঠানো এক কূটনৈতিক নথিতে সতর্ক করেছে মস্কো।
ন্যাটো সদস্য দেশগুলোতে পাঠানো ওই কূটনৈতিক স্মারকে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) মস্কো দাবি করে, ন্যাটো জোট কালিনিনগ্রাদে একটি আকাশ ও নৌ অবরুদ্ধকরণের (ব্লকেড) প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তাদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য রয়েছে। খবর আলজাজিরার।
তবে রাশিয়ার এই পারমাণবিক হুমকিকে উসকানিমূলক এবং একেবারেই অপ্রয়োজনীয় বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ন্যাটো একটি আত্মরক্ষামূলক জোট। তাই মস্কোর উচিত পারমাণবিক হুমকি বন্ধ করা।
রাশিয়ার এ হুমকিকে গুরুত্ব না দিয়ে রুটে আরও বলেন, ন্যাটোর সঙ্গে সরাসরি সংঘাত বা উত্তেজনায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন কখনও জয়ী হতে পারবেন না— তা পুতিন নিজেও ভালো করে জানেন।
উল্লেখ্য, পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়ার মতো ন্যাটো সদস্য দেশ বেষ্টিত বাল্টিক সাগরের তীরে অবস্থিত রাশিয়ার একটি সামরিক ছিটমহল হলো কালিনিনগ্রাদ। এটি রাশিয়ার বাল্টিক ফ্লিট (নৌবহর) এবং পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন ‘ইস্কান্দার’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার প্রধান ঘাঁটি হিসেবে কাজ করে।
ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আক্রমণ চার বছর পেরিয়ে দীর্ঘ সাড়ে চার বছরে পা রাখায় প্রতিবেশী দেশগুলোতে এই সংঘাতের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে পোল্যান্ডের আকাশসীমা লঙ্ঘনের পর দেশটি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করেছে, অন্যদিকে দুই সপ্তাহ আগে বাল্টিক সাগরে ডেনিশ সামরিক হেলিকপ্টারের কাছে একটি রুশ যুদ্ধজাহাজ থেকে ফ্লেয়ার ছোড়ার ঘটনাও ঘটেছে।