নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী অঞ্চলে আকস্মিক ভয়াবহ বন্যার পর এ পর্যন্ত ১৬০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এতে আরও কয়েকশ মানুষ নিখোঁজ রয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
বুধবার (২৬ আগস্ট) নেপালের পুলিশ জানায়, তারা তিব্বত সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যার পর ১৫৭টি মরদেহ উদ্ধার করেছে। পুলিশ মারা যাওয়া ১৫৭ জনের বিস্তারিত তথ্য জানিয়ে একটি হালনাগাদ বিবৃতি প্রকাশ করেছে।
এর আগে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম তিব্বত সীমান্তের একটি কেন্দ্রে ভূমিধসে ‘বহু হতাহতের’ খবর জানিয়েছিল। সেখানে তিনজনের মৃত্যু এবং আরও ২৬৫ জন নিখোঁজ হয়েছে বলে গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়।
এদিকে, তিব্বত সীমান্তের কাছে প্রাণঘাতী বন্যার কয়েক ঘণ্টার মাথায় নেপালে সাহায্য পাঠানোর জন্য আন্তর্জাতিক ত্রাণ প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে। ত্রাণকর্মীরা সতর্ক করে বলেছেন, বুধবারের আকস্মিক বন্যায় সম্পূর্ণ লোকালয় মাটির সঙ্গে মিশে গেছে।
আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ফলে চীন ও নেপালের মধ্যবর্তী নদীতে বিশাল জলস্রোত তৈরি হয় ও পাহাড় থেকে তা আছড়ে পড়ে আশপাশের ভবনগুলোকে কাদায় ঢেকে ফেলে।
ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজের (আইএফআরসি) নেপাল প্রধান ডেভিড ফিশার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘পুরো গ্রাম এবং বাজার এলাকা ধ্বংস হয়ে গেছে।’
আইএফআরসি জানিয়েছে, ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তার জন্য তারা জরুরি তহবিল থেকে ১৪ লাখ ডলার অবমুক্ত করেছে। সংস্থাটি জানায়, প্রাথমিক সহায়তার মধ্যে রয়েছে খাবার পানি এবং কম্বল, প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম, স্ট্রেচার ও বডি ব্যাগের মতো জরুরি সরবরাহ পণ্য।
ডেভিড ফিশার বলেন, ‘এখন অগ্রাধিকার হলো ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনের কাছে পৌঁছানো এবং যারা ঘরবাড়ি হারিয়েছেন, আহত হয়েছেন বা যোগাযোগবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন তাদের কাছে সাহায্য পৌঁছে দেওয়া।’
ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানিয়েছে, নেপালে বন্যার পর উদ্ধার তৎপরতায় সহায়তার জন্য তারা তাদের ‘কোপার্নিকাস’ উপগ্রহ নজরদারি ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে এবং আরও সাহায্য দিতে প্রস্তুত রয়েছে। অন্যদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, তারা জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠিয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রানিয়াম জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারত কম্বল, সৌর বাতি এবং ওষুধসহ প্রাথমিকভাবে ১০ টন মানবিক সহায়তা পাঠিয়েছে।
ভারতের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, আরও সামরিক পরিবহন বিমান অতিরিক্ত ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে যাবে এবং উদ্ধার ও স্থানান্তর অভিযানের জন্য হেলিকপ্টার প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে।
এর আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, ভারত নেপালকে সম্ভাব্য সব মানবিক সহায়তা দিতে প্রস্তুত।
এই বন্যা নেপালের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকা এবং চীনের তিব্বত অঞ্চলে আঘাত হানে।
ভারতে অবস্থিত তিব্বতি নির্বাসিত সরকারের (সেন্ট্রাল তিব্বতিয়ান অ্যাডমিনিস্ট্রেশ, সিটিএ) নেতা পেনপা ছেরিং এই দুর্যোগকে একটি ‘মহাবিপর্যয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
পেনপা এছেরিং বলেন, ‘প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের খবর… এবং এখনো শত শত মানুষের নিখোঁজ থাকার ঘটনা হৃদয়বিদারক।’
ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানিয়েছেন, নেপালের নিম্ন অববাহিকার দেশ ভারত তাদের সীমান্তবর্তী রাজ্য বিহার ও উত্তর প্রদেশে উদ্ধারকারী দলগুলোকে উচ্চ সতর্ক অবস্থায় রেখেছে।
এ ছাড়া বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কঠিন পরিস্থিতিতে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ ও দেশটির জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
বুধবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকের এক পোস্টে সমবেদনা জানান তারেক রহমান।
ফেসবুক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নেপালে আঘাত হানা বিধ্বংসী বন্যায় মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনায় আমরা গভীরভাবে মর্মাহত ও দুঃখিত। বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের পক্ষ থেকে আমি প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ ও নেপালের জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।
তারেক রহমান বলেন, যারা প্রাণ হারিয়েছেন ও এই অপূরণীয় ক্ষতির শিকার হয়েছেন, তাদের পরিবার ও স্বজনদের প্রতি আমাদের সহানুভূতি ও প্রার্থনা রইল।
উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে বন্ধুপ্রতিম দেশটির পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই দুঃসময়ে নেপালের যেকোনো ধরনের সহায়তার প্রয়োজনে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ পাশে থাকতে প্রস্তুত।