নিউ ইয়র্কের মঞ্চে দাঁড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধ বন্ধের শর্ত দিলেন ইরানি প্রেসিডেন্ট

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চাপানো যুদ্ধের সাত মাস পর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের মঞ্চ থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির কঠোর জবাব দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। বিশ্বনেতাদের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইসলামিক রিপাবলিক ইরান কখনও নতি স্বীকার করবে না।

ইরান তার অস্তিত্ব রক্ষার সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছে। ট্রাম্পের ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকটের মাঝেই নিউ ইয়র্কে দেওয়া ভাষণে পেজেশকিয়ান স্পষ্ট করেন, পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা কিংবা হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরান কোনও আপস করবে না। তিনি বলেন, একটি জলপথ ব্যবহার করে কেউ সুবিধা নেবে এবং সেটি ব্যবহার করেই আমাদের ওপর আগ্রাসন ও নিরাপত্তা শঙ্কা চাপিয়ে দিয়ে আমাদের জলপথে প্রবেশে বাধা দেবে, তা হতে পারে না।

মঙ্গলবার জাতিসংঘের মঞ্চেই ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন যে তিনি ইরানকে ধ্বংস করা কিংবা জাহান্নামে পাঠিয়ে দেওয়ার কথা ভাবছেন। ট্রাম্পের এমন কঠোর বক্তব্যের পর পেজেশকিয়ান তার পূর্বপ্রস্তুতকৃত ভাষণ পরিবর্তন করেন। ইরানের গণমাধ্যম ও কট্টরপন্থি পত্রিকাগুলোতে তার এই নতুন ভাষণের ব্যাপক প্রশংসা করা হয়েছে।

প্রতিবেশী দেশগুলোর উদ্দেশে পেজেশকিয়ান বলেন, অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, অন্যথায় পুরো অঞ্চলকে একসঙ্গে নিরাপত্তাহীনতায় বাস করতে হবে।

লন্ডনের চ্যাটাম হাউসের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক পরিচালক সানাম ভাকিল এটিকে একটি পরোক্ষ হুমকি হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, ইরান বোঝাতে চেয়েছে যে তাদের ওপর চাপ অব্যাহত রাখলে পুরো অঞ্চলকেই তার মূল্য দিতে হবে।

অন্যদিকে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক হামিদরেজা আজিজি বলেন, এর মাধ্যমে আঞ্চলিক প্রতিবেশীদের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও প্রকাশ পেয়েছে।

এই ভাষণের ঠিক একদিন আগেই নিউ ইয়র্কে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে প্রায় দুই ঘণ্টা বৈঠক করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। যদিও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, সেই আলোচনায় বড় ধরনের কোনও অগ্রগতি হয়নি।

অন্যদিকে, দেশের ভেতরে কট্টরপন্থিদের সমালোচনার মুখে পড়েছেন পেজেশকিয়ান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী। কট্টরপন্থি সংসদ সদস্য ইব্রাহিম রেজাই প্রশ্ন তুলেছেন, কোন কর্তৃত্বর বলে আক্রমণকারী শত্রুর প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক করা হলো, তা পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ব্যাখ্যা করতে হবে।

ইতোমধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান মোহসেন রেজাই রাষ্ট্রীয় মাধ্যমে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার জন্য নতুন কূটনৈতিক কাঠামো গ্রহণ করবে তেহরান। তিনি বলেন, নতুন কাঠামো অনুযায়ী ফাপা বুলি ও কেবল আলোচনার জন্য আলোচনার দিন শেষ। যেকোনও ভবিষ্যৎ আলোচনা কিংবা হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্তকরণ নির্ভর করবে ওয়াশিংটন কর্তৃক ইরানের শর্তসমূহ পূর্বশর্ত হিসেবে পুরোপুরি বাস্তবায়নের ওপর।

পেজেশকিয়ানের এই কূটনৈতিক তৎপরতা ও সহাবস্থানের বার্তার মধ্যেই ওমানের সামুদ্রিক নিরাপত্তা কেন্দ্র জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির কাছে একটি জাহাজে হামলায় একজন নিহত হয়েছেন। ইউকেএমটিও অঞ্চলটিতে চলাচলকারী নৌযানগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে যাতায়াতের পরামর্শ দিয়েছে।

সূত্র: সিএনএন

এসএন/পিডিকে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *