গোপালগঞ্জে মধুমতি নদীতে গোসল করতে নেমে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া সাত বছরের এক শিশু নিখোঁজের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২৯ আগষ্ট) বেলা ১টার দিকে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার হরিদাসপুর এলাকায় মধুমতি নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হয় রাব্বি নামে ৭ বছরের ওই শিশু।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস পৌঁছালেও ডুবুরি না থাকায় উদ্ধার কাজ শুরু করতে পারেনি তারা। নিখোঁজ রাব্বি নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার বাঁকা গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে এবং বাঁকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। পরিবারের লোকজন জানায়, গত বৃহস্পতিবার বাবা-মায়ের সাথে হরিদাসপুরে মামা নূরে আলম খানের বাড়িতে বেড়াতে আসে রাব্বি।
শনিবার বেলা ১টার দিকে একই বয়সী প্রতিবেশী মেহেরাবের সঙ্গে মধুমতি নদীতে গোসল করতে যায় সে। গোসলের একপর্যায়ে নদীর স্রোতে ভেসে গিয়ে নিখোঁজ হয় শিশুটি।
খবর পেয়ে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও স্থানীয় ইউনিটে ডুবুরি না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করা সম্ভব হয়নি। তবে নিখোঁজ শিশুকে উদ্ধারে নদীজুড়ে স্থানীয়দের উদ্যোগে খোঁজাখুঁজি চালাতে দেখা গেছে।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, মাদারীপুরের ডুবুরি দলকে খবর দেওয়া হয়েছে। ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করা সম্ভব হবে।
নিখোঁজ শিশুর মামাতো ভাই মো. আশিক বলেন, আমার ফুফাতো ভাই রাব্বি আমাদের বাড়িতে অন্য বাচ্চাদের সঙ্গে খেলা করছিল। হঠাৎ সে কাউকে না জানিয়ে অন্য আরেক শিশুর সঙ্গে নদীতে গোসল করতে যায়। সে সাঁতার না জানায় হঠাৎ করে নিখোঁজ হয়েছে। পরে আমরা ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে এলেও গোপালগঞ্জ জেলায় কোনো ডুবুরি না থাকায় উদ্ধার অভিযান শুরু করতে পারেনি।
স্থানীয় বাসিন্দা জিল্লুর রহমান বলেন, গোপালগঞ্জ নদী-নালা, খাল-বিল বেষ্টিত একটি জেলা। এখানে কোনো ডুবুরি না থাকায় উদ্ধার কার্যক্রম সব সময়ই ব্যাহত হয়। এটা অত্যন্ত হতাশাজনক।
উদ্ধার কার্যক্রমে আসা ফায়ার সার্ভিসের লিডার মো. এসকেনদার আলী শেখ বলেন, আমি গোপালগঞ্জে গত চার বছর ধরে চাকরি করছি। এ জেলার ফায়ার সার্ভিসের কোনো ডুবুরি দল নেই। পানিতে যেকোনো ধরনের উদ্ধার কার্যক্রম চালাতে হলে আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় খুলনা, মাদারীপুর অথবা ফরিদপুর থেকে ডুবুরিদলের সহযোগিতা নিতে হয়।
