নড়াইল সদর উপজেলায় পৃথক স্থানে খেলতে গিয়ে বাড়ির পাশে পুকুরের পানিতে ডুবে আপন দুই ভাইসহ তিনটি অবুঝ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আজ বুধবার (১০ জুন) দুপুরের দিকে উপজেলার দুটি ভিন্ন গ্রামে এই পৃথক হৃদবিদারক দুর্ঘটনাগুলো ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার চণ্ডীবরপুর ইউনিয়নের ভাটিয়া গ্রামে সকালে নিজ বাড়ির পাশে খেলা করার সময় পুকুরের পানিতে ডুবে প্রাণ হারিয়েছে আবু বক্কর (৫) এবং ওমর ফারুক (২) নামের আপন দুই ভাই। এই মৃত শিশু দুটি ওই গ্রামের মাজেদুল শেখের সন্তান।
অন্যদিকে একই দিন দুপুরে নড়াইল সদর উপজেলার শোলপুর গ্রামে বাপ্পী শেখের দেড় বছরের একমাত্র শিশুপুত্র আব্দুর রহমানও বাড়ির পাশের পুকুরের পানিতে ডুবে মারা গেছে। একই দিনে তিন শিশুর এমন অকাল ও আকস্মিক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো নড়াইল জেলায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ভাটিয়া গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আজ সকালে মাজেদুল শেখের দুই শিশুপুত্র আবু বক্কর ও ওমর ফারুক প্রতিদিনের মতোই নিজ বাড়ির পাশে উঠানে খেলাধুলা করছিল। ওই সময় তাদের পরিবারের অন্য সদস্যরা যে যার মতো গৃহস্থালির দৈনন্দিন কাজে ব্যস্ত ছিলেন। একপর্যায়ে বেশ কিছু সময় ধরে অবুঝ দুই ভাইয়ের কোনো সাড়াশব্দ বা দেখতে না পেয়ে স্বজনদের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয় এবং তারা চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাড়ির ঠিক পাশের একটি পুকুরের পানিতে আপন দুই ভাইকে অচেতন অবস্থায় ভাসতে দেখা যায়। স্বজনরা চিৎকার করে তাদের পানি থেকে দ্রুত উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পর জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে শিশু দুটিকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
নড়াইল জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক অলোক কুমার বাগচী এই যুগপৎ ট্র্যাজেডির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পৃথক স্থান থেকে পানিতে ডুবে যাওয়া মোট তিনটি শিশুকে আজ দুপুরে হাসপাতালে আনা হয়েছিল; তবে অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই পথেই ওই তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
নড়াইল সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নড়াইল সদরের পৃথক দুটি গ্রামে পানিতে ডুবে আপন দুই ভাইসহ তিন শিশুর মৃত্যুর খবর পেয়েছি। খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলগুলোতে পুলিশের পৃথক দুটি টিম পাঠানো হয়েছে। কোনো অভিযোগ না থাকায় প্রাথমিক আইনি সুরতহাল প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ তিনটি দাফনের জন্য তাদের শোকাবহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া চলছে।