দেশের বিমানবন্দরগুলোতে রফতানি কার্গো স্ক্রিনিং সক্ষমতা আরও সম্প্রসারিত হয়েছে। বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) ধারাবাহিক ও সমন্বিত উদ্যোগের ফলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এক্সপ্লোসিভ ডিটেকশন ডগ (ইডিডি) পদ্ধতি ব্যবহার করে সরাসরি যুক্তরাজ্যগামী রফতানি কার্গো স্ক্রিনিংয়ের অনুমোদন পুনর্বহাল করা হয়েছে।
এর ফলে বাংলাদেশের রফতানি কার্গো নিরাপত্তা ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বেবিচকের মুখপাত্র কাওছার মাহমুদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, এর ফলে যুক্তরাজ্যগামী পণ্যের নিরাপত্তা যাচাই প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য হবে। এতে রফতানি কার্যক্রমে আস্থা বাড়বে এবং অতিরিক্ত পুনঃপরীক্ষা বা বিলম্বের ঝুঁকি কমে আসবে।
তিনি আরও বলেন, এই উদ্যোগ সরাসরি কার্গো পরিবহন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি রফতানিকারকদের সময় ও ব্যয় সাশ্রয়েও সহায়তা করবে।
তিনি বলেন, ঢাকার পাশাপাশি সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দ্বিতীয় এক্সপ্লোসিভ ডিটেকশন সিস্টেম (ইডিএস) চালু হওয়ায় রফতানি কার্গো স্ক্রিনিং সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
এর ফলে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রফতানি কার্গো স্ক্রিনিং কার্যক্রম আরও দ্রুত, নিরবচ্ছিন্ন ও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।
কাওছার মাহমুদ বলেন, দ্বিতীয় ইডিএস চালু হওয়ায় স্ক্রিনিং সক্ষমতা বেড়েছে। এতে কার্গো প্রক্রিয়াজাতকরণে সময় কমবে এবং রফতানি কার্যক্রমে গতি আসবে। এর ফলে বাড়তি চাপ মোকাবিলা সহজ হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী হবে। এতে রফতানিকারকদের জন্য আস্থা ও সুবিধা—উভয়ই নিশ্চিত হবে।
বেবিচক জানিয়েছে, বাংলাদেশ থেকে সরাসরি ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও যুক্তরাজ্যে রফতানি কার্গো পাঠানোর জন্য ২০১৭ সালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ‘থার্ড কান্ট্রি ইইউ অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি ভ্যালিডেটেড রেগুলেটেড এজেন্ট (আরএ৩)’ স্বীকৃতি অর্জন করে।
এই স্বীকৃতির আওতায় রফতানি কার্গো স্ক্রিনিংয়ে এক্সপ্লোসিভ ডিটেকশন সিস্টেম (ইডিএস), এক্সরে, এক্সপ্লোসিভ ট্রেস ডিটেকশন (ইটিডি) এবং এক্সপ্লোসিভ ডিটেকশন ডগ (ইডিডি)—এই চারটি পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
তবে ২০২১ সালে যুক্তরাজ্যের ডিপার্টমেন্ট ফর ট্রান্সপোর্ট (ডিএফটি) সরাসরি যুক্তরাজ্যগামী কার্গোর ক্ষেত্রে ইডিডি পদ্ধতির অনুমোদন সাময়িকভাবে স্থগিত করে। পরবর্তীতে বেবিচকের আন্তরিক উদ্যোগ, ধারাবাহিক কূটনৈতিক ও কারিগরি সমন্বয় এবং ডিএফটি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যগামী কার্গোর জন্য ইডিডি অনুমোদন পুনর্বহাল করা সম্ভব হয়েছে।
সূত্র জানায়, এর ফলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এখন ইডিএস, এক্সরে এবং ইটিডির পাশাপাশি ইডিডির পূর্ণাঙ্গ ব্যবহার নিশ্চিত হলো। এতে রফতানি কার্গো স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত ও কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে এ অর্জনের মাধ্যমে সরাসরি কার্গো পরিবহণে সক্ষমতা অর্জন করবে।
অন্যদিকে, সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ২০২১ সালে আরএ ৩ ভ্যালিডিয়েশন অর্জনের মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যে সরাসরি রফতানি কার্গো কার্যক্রম শুরু করে। কিছু সময় কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলেও ২০২৫ সালের এপ্রিল মাস থেকে পুনরায় নিয়মিত কার্গো অপারেশন চালু রয়েছে।
বেবিচক কর্মকর্তারা বলছেন, সিলেট বিমানবন্দরে ইতোমধ্যে ইডিএস, এক্সরে এবং ইটিডি পদ্ধতিতে স্ক্রিনিং কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল। সম্প্রতি বেবিচকের উদ্যোগে দ্বিতীয় ইডিএস চালু হওয়ায় বিমানবন্দরটির রফতানি কার্গো স্ক্রিনিং সক্ষমতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।
এর ফলে নতুন নতুন এয়ারলাইনস এসিসি৩ ভ্যালিডিয়েশন অর্জনে আগ্রহ প্রকাশ করছে এবং বিমানবন্দরটির কার্গো পরিচালন সক্ষমতা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে সিলেট থেকে বৃহৎ পরিসরে সরাসরি রফতানি কার্গো পরিচালনার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, যা বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এসএন/পিডিকে