নির্বাচনি অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে দিল্লিতে চলা বিক্ষোভে উঠে এসেছেন এক নতুন মুখ—নেহা বোরা। ২৯ বছর বয়সী এই আন্দোলনকারীকে গত শবিবার (১০ অক্টোবর) আটক করে পুলিশ। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবিতে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আটক হওয়ার সময় বামপন্থি সংগঠন ‘অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (আইসা)’ এর জাতীয় সভানেত্রী নেহা বোরা অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে যন্তর মন্তরের অভিমুখে মিছিল করে যাচ্ছিলেন। বর্তমানে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ মিছিল নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে বক্তব্য দিয়ে নেহা বোরা দ্রুতই জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। গুগলে তাকে নিয়ে প্রচুর সার্চ হতে থাকে; মানুষ তার পরিচয়, বয়স, নিজ শহর, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং বাবার নাম সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হয়ে ওঠে। খবর এনডিটিভির।
নেহা বোরার বাড়ি ভারতের উত্তরাখণ্ডের খাতিমায়। তার শিক্ষাজীবন শুরু হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ির স্কুলে এবং পরবর্তীতে তা দিল্লির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিস্তৃত হয়। তিনি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের হিন্দু কলেজে সমাজবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেন এবং পরে ড. বি আর আম্বেদকর ইউনিভার্সিটি দিল্লিতে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনা করেন।
নেহা বোরা জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ’ বিষয়ে পিএইচডি করেন। গেল সপ্তাহজুড়ে গুগলে তাকে নিয়ে সার্চ হঠাৎ বেড়ে যায় এবং আজ সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে তা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।
নেহা বোরা কীভাবে একজন ছাত্রনেতা হয়ে উঠলেন?
রাজনীতিতে নেহা বোরার যাত্রার সূত্রপাত হয়েছিল থিয়েটার এবং পরবর্তীতে ২০১৯ ও ২০২০ সালে নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। আইসার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর তিনি সংগঠনটির জাতীয় সভানেত্রী হন। শিক্ষা ও অন্যান্য জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিতর্ক এবং ছাত্র আন্দোলনে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ সবার নজর কাড়ে এবং তিনি পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স ও ইনস্টাগ্রামে নেহা বোরার পোস্ট ও ভিডিওগুলোর মাধ্যমে মানুষ ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি এবং আন্দোলনকারীদের পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে নিয়মিত জানতে পারছিল। গত শনিবার দিল্লি পুলিশ যখন বিক্ষোভকারীদের যন্তর মন্তরে পৌঁছাতে বাধা দেয়, তখন নেহা বোরা তাদের ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হস্তশিল্পের বাজার ‘দিল্লি হাটে’ পুনরায় একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানান।
পরে অনলাইনে পোস্ট করা এক ভিডিওতে নেহা বোরা বলেন, ‘আমাকে আটক করা হয়েছে, কিন্তু আন্দোলনকে আটকানো যায়নি।’ এ সময় তিনি পুলিশের বাধার মুখে পড়া সমর্থকদের উদ্দেশে আহ্বান জানান যেন তারা যেখানে আছেন, সেখান থেকেই প্রতিবাদ চালিয়ে যান।
কথাবার্তায় মৃদুভাষী হলেও মাইক্রোফোনের সামনে নেহা বোরা অত্যন্ত জোরালো কণ্ঠস্বর ও দৃঢ়তার পরিচয় দেন। হিন্দি ও ইংরেজিতে দেওয়া বক্তৃতার মাধ্যমে তিনি নিজের অনুসারী বা সমর্থক গোষ্ঠী গড়ে তুলেছেন। এসব বক্তৃতায় তিনি প্রায়ই সাংবিধানিক অধিকারের প্রসঙ্গ টানেন এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ক্ষোভ-অভিযোগকে বৈষম্য ও সরকারের জবাবদিহিতার বিষয়গুলোর তুলে ধরেন।
‘ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)’ এর ডাকা এবং বিরোধী দলের সমর্থনপুষ্ট বিক্ষোভ কর্মসূচি নস্যাৎ করতে পুলিশ যখন অন্তত তিন হাজার মানুষকে আটক করে, তার ঠিক পরের দিনই দিল্লিতে এ বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে। দিল্লি পুলিশ জানায়, বিক্ষোভের কোনো অনুমতি না থাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার স্বার্থে এই ব্যাপক ধরপাকড় বা প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
