ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শনিবার (১০ অক্টোবর) দেশটির প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঠেকাতে পুলিশ হাজারো আন্দোলনকারী ও বিরোধী নেতাকর্মীকে আটক করেছে৷ আটক হয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেসহ আর চারজন সাবেক মুখ্যমন্ত্রীও৷
বেশিরভাগ বিক্ষোভকারীকে যন্তর মন্তরের কাছে আটকে দেওয়া হয়৷ পুলিশের বাধার মুখে কেউ কেউ প্রতিরোধ গড়ে তুললে তাদের বিভিন্ন আটককেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়৷ দিল্লি পুলিশ-এর একজন মুখপাত্র বার্তা সংস্থা ডিপিএ-কে জানান, এই সমাবেশের অনুমোদন নেওয়া হয়নি। বিভিন্ন স্থান থেকে কতজনকে আটক করা হয়েছে কিংবা আটক ব্যক্তিদের কখন মুক্তি দেওয়া হবে, সেটিও স্পষ্ট নয়৷
ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু জানিয়েছে, অন্তত ৫ হাজার জনকে আটক করা হয়েছে৷ অন্যদিকে দিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে সিজেপি এর নেতা আজিঙ্কে শিন্ডে বলেন, “১৫ হাজারেরও বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে৷’’
বিরোধী নেতাকর্মীদের মধ্যে আটক হয়েছেন দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ত্রিপুরার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার এবং কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারায়ি বিজয়ন৷
ভারতের বিরোধী দল কংগ্রেসনেতা রাহুল গান্ধী এই ধরপাকড়কে ‘কাপুরুষোচিত’ পদক্ষেপ বলে আখ্যা দিয়েছেন৷ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত, সিইসি জ্ঞানেশ কুমার এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালকে এই ঘটনার ‘খলনায়ক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন৷
কংগ্রেসের এমপি প্রিয়াঙ্কা গান্ধী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ করে লিখেছেন, “ভারতে আর গণতন্ত্র নেই৷ এটি নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহ পরিচালিত একটি স্বৈরতন্ত্রে পরিণত হয়েছে৷’’
এদিকে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) সভাপতি নেহা বোরা স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছেন, তাকে পুলিশ ছেড়ে দিয়েছে৷ সিইসির পদত্যাগের দাবিতে এই আন্দোলনের অন্যতম মুখ নেহা বোরাকে সকালে আটক করা হয়েছিল৷
সকালে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকে দিল্লিতে বিমান থেকে নামার আগেই পুলিশ আটক করে৷